বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর : রবিবার থেকে কাছাড় জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল ২০২৭ সালের জনগণনার প্রথম পর্যায়ের স্ব-গণনা প্রক্রিয়া। দেশের প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল জনগণনায় প্রত্যেক নাগরিককে ২ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে অনলাইনে নিজের তথ্য জমা দেওয়ার আহ্বান জানাল জেলা প্রশাসন।
জেলা উপায়ুক্তের কার্যালয়ের নতুন সভাগৃহে এই সূচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাছাড়ের জেলা উন্নয়ন আয়ুক্ত রাজীব রায়, এ.সি.এস। জেলা জনগণনা আধিকারিক তথা অতিরিক্ত জেলা উপায়ুক্ত রক্তিম বরুয়া, এ.সি.এস জনগণনা প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
জেলা উন্নয়ন আয়ুক্তের বক্তব্য
রাজীব রায় বলেন, জনগণনা সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কাজ। এর ভিত্তিতেই ভবিষ্যতের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা, সরকারি পরিষেবা এবং নীতি নির্ধারণ হয়। সঠিক ও সম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে প্রত্যেক নাগরিক যেন এই কাজে অংশ নেন, সেই আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্ব-গণনা শেষ করে বাড়ি বাড়ি যাচাইয়ের সময় গণনাকারীদের সহযোগিতা করতে হবে।
কাছাড় জেলার প্রস্তুতি
রক্তিম বরুয়া জানান, এবারের জনগণনা সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে হচ্ছে। কাছাড় জেলায় রয়েছে ৮টি জনগণনা চার্জ। এগুলি হল শিলচর সদর, সোনাই, লখীপুর, উদারবন্দ ও কাটিগড়া রাজস্ব চক্র এবং লখীপুর, সোনাই ও বদরপুর পৌরসভা।
জেলায় মোট ৩০৩১ জন গণনাকারী ও ৫১২ জন সুপারভাইজার কাজ করবেন। এর মধ্যে কাটিগড়া গ্রামীণ চার্জে ৬১১ জন গণনাকারী ও ১০২ জন সুপারভাইজার, শিলচর সদর গ্রামীণে ৮৫০ জন গণনাকারী ও ১৪৭ জন সুপারভাইজার, উদারবন্দে ২৬২ জন গণনাকারী ও ৪৩ জন সুপারভাইজার, সোনাইয়ে ৭৪৯ জন গণনাকারী ও ১২৭ জন সুপারভাইজার এবং লখীপুরে ৪৮৩ জন গণনাকারী ও ৮১ জন সুপারভাইজার রয়েছেন। তিনটি পৌরসভায় মিলিয়ে আরও ৭৬ জন গণনাকারী ও ১২ জন সুপারভাইজার কাজ করবেন।
গণনাকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ২০ জুলাই, ২০২৬ থেকে কাছাড় কলেজ, এস.এম. দেব কলেজ সহ জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে।

কীভাবে করবেন স্ব-গণনা
নাগরিকরা ২ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি পোর্টাল `se.census.gov.in` এর মাধ্যমে নিজেরাই অনলাইনে তথ্য জমা দিতে পারবেন।
১৭ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত গণনাকারীরা প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে জমা দেওয়া তথ্য যাচাই করবেন। যারা স্ব-গণনা করেননি বা সংশোধন প্রয়োজন, তাদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হবে জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায়, অর্থাৎ মূল জনসংখ্যা গণনা।
রক্তিম বরুয়া আরও জানান, ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী কাছাড় জেলার জনসংখ্যা ছিল ১৭,৩৬,৩১৯। এবার সঠিক তথ্য সংগ্রহ হলে সরকারি পরিকল্পনা ও পরিষেবা আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
জনপ্রতিনিধিদের আহ্বান
শিলচরের বিধায়ক ডক্টর রাজদীপ রায় বলেন, “নির্ভুল জনগণনাই হল পরিকল্পিত উন্নয়ন, সুশাসন ও কল্যাণমূলক প্রকল্প রূপায়নের ভিত্তি। স্কুল, হাসপাতাল, রাস্তা, ঘর ও কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার জন্য সঠিক তথ্য খুব জরুরি। প্রত্যেক নাগরিক যেন আন্তরিকভাবে এই জাতীয় কাজে অংশ নেন।”
সোনাইয়ের বিধায়ক আমিনুল হক লস্কর বলেন, জনগণনা শুধু পরিসংখ্যান নয়, এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব। প্রতিটি পরিবার যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্ব-গণনা শেষ করে অন্যদেরও উৎসাহিত করে।
অনুষ্ঠানে কাছাড় জেলা পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক ডোরোথি সুচিয়াং, এ.সি.এস, আরও কয়েকজন অতিরিক্ত জেলা উপায়ুক্ত, ডিডিএমএ-র মুখ্য আধিকারিক, ডিডিআইপিআর-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক অরুণাভ চৌধুরী, এ.সি.এস, জনগণনার নোডাল আধিকারিক নয়ন মনি দত্ত, এ.সি.এস সহ অন্যান্য আধিকারিক ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসনের তরফে আবারও অনুরোধ করা হয়েছে, ২ থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে `se.census.gov.in` পোর্টালে গিয়ে স্ব-গণনা সম্পূর্ণ করুন এবং পরিবার, প্রতিবেশীদেরও অংশ নিতে উৎসাহিত করুন।
তথ্যসূত্র: তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগ










