,

কাছাড়ের ছয় কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রীর আত্মনির্ভর অসম অভিযান চেক বিতরণ, অংশ নিলেন আড়াই হাজারের বেশি সুবিধাপ্রাপক

স্থানীয় স্তরে পৌঁছল আত্মনির্ভর অসম অভিযানের সুবিধা, শিলচর পুরনিগম এলাকা নির্বাচন আচরণবিধির আওতায় বাইরে জনসংযোগ। শিলচর : জেলা সদর থেকে দূরে গিয়ে কাছাড়ের ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার একসঙ্গে পৌঁছল মুখ্যমন্ত্রীর আত্মনির্ভর অসম অভিযান (CMAAA)-এর ১.০ এবং ২.০ পর্যায়ের আর্থিক সহায়তা। লক্ষীপুর, উদারবন্দ, বড়খলা, কাটিগড়া, সোনাই ও ধলাইয়ে আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠানে আড়াই হাজারের বেশি সুবিধাপ্রাপক ও…

স্থানীয় স্তরে পৌঁছল আত্মনির্ভর অসম অভিযানের সুবিধা, শিলচর পুরনিগম এলাকা নির্বাচন আচরণবিধির আওতায় বাইরে

জনসংযোগ। শিলচর : জেলা সদর থেকে দূরে গিয়ে কাছাড়ের ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার একসঙ্গে পৌঁছল মুখ্যমন্ত্রীর আত্মনির্ভর অসম অভিযান (CMAAA)-এর ১.০ এবং ২.০ পর্যায়ের আর্থিক সহায়তা। লক্ষীপুর, উদারবন্দ, বড়খলা, কাটিগড়া, সোনাই ও ধলাইয়ে আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠানে আড়াই হাজারের বেশি সুবিধাপ্রাপক ও অংশগ্রহণকারী যোগ দেন।

জেলা প্রশাসন এবং জেলা শিল্প ও বাণিজ্য কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানগুলিতে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে একই সময়ে স্থানীয় অনুষ্ঠানগুলিও চলে। চেক বিতরণের পাশাপাশি সুবিধাপ্রাপকদের সাথে মতবিনিময় এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হয়।

তবে চলতি শিলচর পুরনিগম নির্বাচনের কারণে পুরনিগম এলাকার বাসিন্দাদের এই পর্বের চেক বিতরণ কর্মসূচির আওতায় রাখা হয়নি। সেখানে বর্তমানে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর রয়েছে।

কাটিগড়ায় সদ্ভাবনা মণ্ডপে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৬৫০-র বেশি মানুষ অংশ নেন। প্রধান অতিথি ছিলেন বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ। লক্ষীপুরের লাবকে জগন্নাথ মন্দির-কাম-দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্রে ৬০০-র বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যের খাদ্য, গণবণ্টন ও উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী কৌশিক রায় সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ধলাইয়ের সম জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ৪০০-র বেশি এবং বড়খলার বহুমুখী হলে ৩৫০-র বেশি মানুষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। উদারবন্দের অরুণাবন্দ চা-বাগানের মহাপ্রভু জগন্নাথ কমিউনিটি-কাম-স্কিল সেন্টারে ২০০-র বেশি সুবিধাপ্রাপক ও অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন। সোনাই বহুমুখী হলেও ২০০-র বেশি মানুষ অংশ নেন।

লক্ষীপুরে মন্ত্রী কৌশিক রায় সুবিধাপ্রাপকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চেক বিতরণে অংশ নেন। লক্ষীপুরের সম জেলা আয়ুক্ত ধ্রুবজ্যোতি পাঠক,এসিএস ও কাছাড়ের সহকারী আয়ুক্ত অরুনাভ চৌধুরী এসিএস এর সমন্বয়ে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। লক্ষীপুর, রাজাবাজার ও বিনাকান্দির বিডিও এবং লক্ষীপুর পুরসভা বোর্ডের নির্বাহী আধিকারিক ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন।

উদারবন্দে বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কাছাড়ের অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত মনজ্যোতি কুটুম এসিএস এবং উদারবন্দ রাজস্ব চক্রের চক্র আধিকারিক প্রনবানন্দ দুয়ারা এসিএস এর সমন্বয়ে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

নিজ বড়খলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক কিশোর নাথ। কাছাড়ের অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত শৌভিক ভুঁইয়া এসি এস এ সামগ্রিক দায়িত্বে ছিলেন। শিলচর রাজস্ব চক্রের চক্র আধিকারিক অর্নব বড়ুয়া এএল আর এস, নোডাল আধিকারিকের দায়িত্ব পালন করেন। বড়খলা ও তাপাংয়ের বিডিও-রা সহযোগিতা করেন।

কাটিগড়ায় অনুষ্ঠানটির সমন্বয় করেন কাটিগড়া রাজস্ব চক্রের চক্র আধিকারিক যাত্রাকান্ত কর্মকার । কাছাড়ের অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত, জাগৃতি কালোয়ার এসিএস সামগ্রিক দায়িত্বে ছিলেন। কাটিগড়া ও কালাইনের বিডিও এবং বদরপুর পুরসভা বোর্ডের নির্বাহী আধিকারিক ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন।

সোনাইয়ে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য। কাছাড়ের অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত ডেভিড কুমার বরা এসি এস এর নেতৃত্বে সোনাই রাজস্ব চক্রের চক্র আধিকারিক, ড: ইলা বানিয়া (এ) অনুষ্ঠানটির সমন্বয় করেন। সোনাই ও বাঁশকান্দির বিডিও এবং সোনাই পুরসভা বোর্ডের নির্বাহী আধিকারিক সহযোগিতা করেন।

ধলাইয়ের অনুষ্ঠানে বিধায়ক অমিয়কান্তি দাস এবং সাংসদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শিলচর রাজস্ব চক্রের চক্র আধিকারিক,কৌস্তভ দাস (এ) নোডাল আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কাছাড়ের অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত, রক্তিম বড়ুয়া এসিএস সামগ্রিক দায়িত্বে ছিলেন। ধলাই-নরসিংপুর, বারজালেঙ্গা ও পালংঘাটের বিডিও-রা সহযোগিতা করেন।

অনুষ্ঠানগুলিতে প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা তাঁদের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন। কৃষি, মৎস্য, পশুপালন ও পশুচিকিৎসা দফতর, কর্মসংস্থান ও কারিগরি প্রশিক্ষণ বিভাগ এবং সহযোগী ব্যাঙ্কগুলির আধিকারিকরা উপস্থিত থেকে সুবিধাপ্রাপকদের সাথে কথা বলেন। প্রকল্পের আওতায় পাওয়া সহায়তা এবং ভবিষ্যতে পাওয়া যেতে পারে এমন বিভিন্ন পরিষেবা সম্পর্কেও তাঁদের তথ্য দেওয়া হয়।

একই দিনে ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্রে অনুষ্ঠান হওয়ায় জেলা সদর পর্যন্ত যাতায়াতের প্রয়োজন পড়েনি সুবিধাপ্রাপকদের। নিজেদের এলাকার কাছেই তাঁরা চেক গ্রহণের সুযোগ পান। জেলা প্রশাসন এবং জেলা শিল্প ও বাণিজ্য কেন্দ্র নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সরকারি দফতর, ব্যাঙ্ক এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে অনুষ্ঠানগুলির আয়োজন করে।

উল্লেখ্য, রাজ্যজুড়ে মুখ্যমন্ত্রীর আত্মনির্ভর আসাম অভিযান ১.০ এবং ২.০ পর্যায়ের বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই বৃহস্পতিবারের এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। গুয়াহাটির কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দুই পর্যায়ের প্রকল্পের আওতায় ৮২,২১৯ জন তরুণ উদ্যোগপতিকে আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *