,

কত্থক গুরু মধুমিতা রায়ের বর্ণময় উপস্থাপনায় উজ্জ্বল কলকাতা ট্র্যাডিশন ফেস্টিভ্যালের প্রথম সন্ধ্যা

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন, কলকাতা: কলকাতা ট্র্যাডিশন ফেস্টিভ্যালের প্রথম সন্ধ্যা বর্ণময় হয়ে উঠল কত্থক গুরু মধুমিতা রায়ের মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনায়। সঙ্গে ছিল তাঁর ঘুঙুরু ডান্স অ্যাকাডেমির ১০ জন শিল্পীর সমবেত নিবেদন। পণ্ডিত বিরজু মহারাজের সিনিয়র শিষ্যা, দূরদর্শনের টপগ্রেড নৃত্যশিল্পী মধুমিতা রায় তাঁর অনুষ্ঠান শুরু করেন রাগ শুদ্ধ সারং-এর ওপর আধারিত একটি বিখ্যাত বন্দিশ ‘আব মরি বাত মান লে…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন, কলকাতা: কলকাতা ট্র্যাডিশন ফেস্টিভ্যালের প্রথম সন্ধ্যা বর্ণময় হয়ে উঠল কত্থক গুরু মধুমিতা রায়ের মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনায়। সঙ্গে ছিল তাঁর ঘুঙুরু ডান্স অ্যাকাডেমির ১০ জন শিল্পীর সমবেত নিবেদন।

পণ্ডিত বিরজু মহারাজের সিনিয়র শিষ্যা, দূরদর্শনের টপগ্রেড নৃত্যশিল্পী মধুমিতা রায় তাঁর অনুষ্ঠান শুরু করেন রাগ শুদ্ধ সারং-এর ওপর আধারিত একটি বিখ্যাত বন্দিশ ‘আব মরি বাত মান লে পি হারোবা’ দিয়ে। এরপর কত্থকের বিভিন্ন আঙ্গিক — টুকরা, পারন, ময়ূরের গত, কঠিন লয়কারিতে তাঁর মনোমুগ্ধকর ও অনবদ্য পরিবেশনা দর্শকদের আপ্লুত করে। শেষ করেন শান্তি আহ্বানে সিদ্ধার্থের সংসার পরিত্যাগ এবং স্বামীর চলে যাওয়ায় স্ত্রী যশোধরার বিলাপ — বুদ্ধত্ব প্রাপ্তি — বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি — এই হৃদয়স্পর্শী অভিনয় অংশ দিয়ে।

আর দলগত পরিবেশনে ছিল ধ্রুপদের সঙ্গে কত্থকের বিভিন্ন আঙ্গিকের পরীক্ষামূলক মিলন, যা দর্শকদের কাছে ছিল এক নতুন অভিজ্ঞতা। এই দলগত পরিবেশনায় মধুমিতা রায়ের সঙ্গে অংশ নেন শ্রিয়াঙ্কা মালি, প্রসেনজিৎ মজুমদার, দেবারতি বন্দ্যোপাধ্যায়, অমিত দাশ, অনিমিখা দে, মউ দত্ত বসু, সোহিনি পাইন, অস্মিতা রায় চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রিকা দাস, প্রিয়া রায়। তাঁদের সমবেত ছন্দ ও মুদ্রা মঞ্চকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

তিনদিনের (২-৪ অক্টোবর) এই উৎসবে কলকাতায় এই প্রথম এক মঞ্চে পাওয়া গেল গ্র্যামি জয়ী, পদ্মভূষণ, পদ্মশ্রী এবং সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি সম্মানে সম্মানিত শিল্পীদের। এবং এই প্রথম শাস্ত্রীয় সঙ্গীত-নৃত্যের সমান্তরালে ছিল লোকব্যান্ড, আধুনিক গান, শিবমণির তালবাদ্য।

হিন্দুস্থান আর্ট অ্যান্ড মিউজিক সোসাইটি আয়োজিত ভারত সংস্কৃতি যাত্রার অঙ্গ হিসেবে সাউথ সিটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এই উৎসব। প্রথম দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পণ্ডিত তরুণ ভট্টাচার্য, এল শঙ্কর, পণ্ডিত বিক্রম ঘোষের তবলা, সন্তুর, বেহালার ত্রিকালা। ছিল লোপামুদ্রা মিত্র ও দোহারের যৌথ চমক।

দ্বিতীয় দিন বেগম পরভীন সুলতানার সঙ্গে তবলায় ছিলেন সমর সাহা, অনুপ জালোটার ভজনে তবলা সঙ্গত করলেন পণ্ডিত প্রসেনজিৎ পোদ্দার। তৃতীয় সন্ধ্যায় অন্যান্য শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন গ্র্যামি জয়ী বিশ্বমোহন ভাট, পণ্ডিত গোবিন্দ বোস, প্রীতি প্যাটেল, জয়া শীল ঘোষ। তিনদিনের এই উৎসব কলকাতার সাংস্কৃতিক মানচিত্রে এক নতুন দিগন্ত যোগ করল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *