,

এক বছরের মধ্যে তিন নতুন ফৌজদারি আইনের শতভাগ বাস্তবায়নের সময়সীমা বেঁধে দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি : আগামী এক বছরের মধ্যে তিনটি নতুন ফৌজদারি আইনের শতভাগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গতকাল নয়াদিল্লিতে জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলনের সমাপ্তি অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে হলে ভারতকে তার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারতের লক্ষ্য…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি : আগামী এক বছরের মধ্যে তিনটি নতুন ফৌজদারি আইনের শতভাগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গতকাল নয়াদিল্লিতে জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলনের সমাপ্তি অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে হলে ভারতকে তার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারতের লক্ষ্য স্থির করেছেন এবং বিকশিত ভারতের প্রাথমিক পূর্বশর্ত হল শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলি যদি মাদক, নকশালবাদ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সমস্যাগুলি বিশাল সংকটে পরিণত হওয়ার আগেই অনুমান করতে পারত, তবে দেশকে দশকের পর দশক ধরে এর খেসারত দিতে হতো না। সরকার এই তিনটি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হটস্পট জুড়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলি দূর করেছে এবং এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব রাজ্য পুলিশ বাহিনী, কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রাপ্য।

তিনি বলেন, এই সম্মেলন মঞ্চের উচিত আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য নতুন সমস্যাগুলি চিহ্নিত করা এবং আগে থেকেই তার মোকাবিলার কৌশল তৈরি করা। তিনি বলেন, নতুন তিনটি ফৌজদারি বিচার আইন আগামী এক বছরের মধ্যে শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে, যার লক্ষ্য হল সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তি তিন বছরের মধ্যে নিশ্চিত করা এবং দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা।

গত আট মাসে তিনি স্থল সীমান্তবর্তী সব রাজ্য সফর করেছেন এবং তাদের সঙ্গে ‘চতুর্মুখী সীমান্ত নিরাপত্তা পদ্ধতি’র রূপরেখা সম্বলিত একটি নথি ভাগ করে নিয়েছেন বলে জানান শাহ। তিনি বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে দেশকে অনুপ্রবেশকারী মুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই দেশ কোনো ধর্মশালা নয় এবং কেবলমাত্র দেশের নাগরিকদেরই এখানে বসবাসের অধিকার রয়েছে, কারণ অনুপ্রবেশকারীরা জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং জনসংখ্যার স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।

নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে ‘মাদক নিয়ন্ত্রণ রূপকল্প নথি ২০২৬-২০২৯’ মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে রাজ্য পুলিশ বাহিনীকে নির্দেশ দেন তিনি এবং মাদকমুক্ত ভারত গড়তে ‘শনাক্ত করো, ব্যাহত করো এবং ধ্বংস করো’ এই তিনটি নীতিতে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও জানান, সিসিটিএনএস, আইসিজেএস, ন্যাটগ্রিড এবং নাফিস নিয়ে সমন্বিত তথ্য ভাণ্ডার তৈরি করা হয়েছে এবং তরুণ আধিকারিকদের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর গোয়েন্দা তথ্য তৈরির জন্য তথ্য একীকরণ, বিশ্লেষণ এবং অপরাধের ধরন শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করা উচিত।

মোদী সরকার পলাতক-বিরোধী ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিদেশ থেকে প্রায় ২৭৪ জন পলাতককে দেশে ফিরিয়ে এনেছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদেশে লুকিয়ে থাকা পলাতকদের দেশের আইনের আওতায় আনতে সব রাজ্যকে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি আরও জানান, সরকার মাল্টি এজেন্সি সেন্টারকে বহুমাত্রিক ফলাফল দিতে সক্ষম একটি মঞ্চে উন্নীত করেছে। বিশ্বব্যাপী অস্থিতিশীলতা, জ্বালানি ও সম্পদের নিরাপত্তাহীনতা, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, ক্রমবর্ধমান মৌলবাদ এবং সাইবার-ভুল তথ্যের যুদ্ধের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা নীতি প্রণয়ন করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *