বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর: ১৯৮৫ সালের আসাম চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিলচরে আসাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত আসাম সরকারের ওয়েবসাইটে প্রদত্ত তথ্য মুছে ফেলার দাবিতে ফের রাজ্যের মুখ্য সচিবের কাছে স্মারকপত্র পাঠালো বরাক উপত্যকা মাতৃভাষা সুরক্ষা সমিতি, কাছাড় জেলা কমিটি।
গত ২০ আগস্ট জেলা সভাপতি সুনীল রায় স্বাক্ষরিত পত্রে সমিতির পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে পাঠানো ৯ জুন ২০২৫ ও ২৭ নভেম্বর ২০২৫-এর দুটি পত্র এবং মুখ্য সচিবের ৭ জুলাই ২০২৫-এর অফিস স্মারকের উল্লেখ করা হয়েছে।
পত্রে সমিতি জানিয়েছে, সরকারি ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র সঠিক তথ্য থাকা উচিত। কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মুখ্য সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সত্ত্বেও শিলচরে আসাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত ভুল তথ্য সংশোধনও করা হয়নি, মুছেও ফেলা হয়নি।
বরাকের বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলনের ইতিহাস
পত্রে উল্লেখ করা হয়, কাছাড় অর্থাৎ বরাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ১৯৭২ সাল থেকে। ১৯৭২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আসাম বিধানসভা কাছাড় জেলায় পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য একটি প্রস্তাব পাস করে, যা সারা আসাম ছাত্র ইউনিয়ন (আসু) তীব্রভাবে বিরোধিতা করে।
এরপর ১৯৭৩ সালের ১৮ এপ্রিল শিলং রাজভবনে একটি ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কে.সি. পন্থ, আসামের মুখ্যমন্ত্রী শরৎ সিংহ, শিক্ষামন্ত্রী-সহ ৬/৭ জন মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ এবং কাছাড় জেলা সংগ্রাম পরিষদ ও ছাত্র-যুব সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ। বর্তমানে ওই চুক্তির স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে একমাত্র জীবিত ব্যক্তি হলেন তৎকালীন ছাত্র-যুব সংগ্রাম পরিষদের সম্পাদক সুনীল রায়।
ওই চুক্তিতেও কাছাড়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ায় বরাক উপত্যকায় দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু হয়। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে ১৯৮৬ সালের ২১ জুলাই শ্রীভূমি/করিমগঞ্জে দুই যুবকের মৃত্যু হয় এবং আরও অনেকে আহত হন।
১৯৮৮ সালে সংসদ কাছাড় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য বিল পাস করে। সেই সময় এজিপি নেতারা বিরোধিতা করে ওয়াকআউট করেন বলে সমিতির ৯ জুনের স্মারকপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
উপরোক্ত তথ্য বিবেচনা করে সমিতি ফের দাবি জানিয়েছে, আসাম সরকারের ওয়েবসাইট থেকে শিলচরের আসাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস সংক্রান্ত ভুল তথ্য অবিলম্বে মুছে ফেলা হোক এবং বিষয়টি সমিতিকে অবহিত করা হোক।












