কামাখ্যা রেল স্টেশনে অসম থেকে গুজরাট পর্যন্ত সোমনাথ যাত্রা ২০২৬-র শুভ সূচনা
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : “পাঁচ হাজার বছরের ভারতীয় সভ্যতার মূল ভিত্তি হল ঐতিহ্য ও পরম্পরা” — কামাখ্যা রেল স্টেশনে সোমনাথ যাত্রার শুভ সূচনা করে রাজ্যের সংস্কৃতি পরিক্রমা দপ্তরের মন্ত্রী বিমল বড়া এই কথা বলেন।
পরম্পরা, ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের ওপর ভর করেই বহু ঝড়-ঝঞ্ঝার মধ্যেও ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে সোমনাথ মন্দির আজও গুজরাটে স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বড়া বলেন, ভারতীয় মানুষের আধ্যাত্মিকতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে সোমনাথ মন্দির এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। তিনি সোমনাথ মন্দিরের ইতিহাসও ব্যাখ্যা করেন।
উল্লেখ্য, সোমনাথ মন্দিরের ওপর প্রথম আক্রমণ হয়েছিল ১০২৬ খ্রিস্টাব্দে। ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির ওপর সেই আঘাতের ১০০০ বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের সাংস্কৃতিক মন্ত্রক ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বছরব্যাপী ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’-র আয়োজন করেছে।
তাছাড়া স্বাধীনতার পর ১৯৫১ সালে এই মন্দির পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই পুনর্নির্মাণেরও ৭৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। একইসঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতির দুটি অধ্যায়কে স্মরণ করা হচ্ছে।
আস্থা, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক চেতনার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে পরিগণিত সোমনাথ ধামের ঐতিহ্য ও অদম্য বিশ্বাসের ১০০০ বছরের পরিক্রমা উপলক্ষে দেশজুড়ে আয়োজিত “সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব”-র অংশ হিসেবে অসমেও “সোমনাথ যাত্রা ২০২৬”-র আয়োজন করা হয়েছে।
এই উপলক্ষে অসমের বিভিন্ন জেলার ১,০৪২ জন তীর্থযাত্রী এবং চিকিৎসক, আধিকারিক ও পুলিশ সহ মোট ১,০৬৪ জন যাত্রী নিয়ে এই বিশেষ ট্রেনটি আজ সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে গুয়াহাটির কামাখ্যা রেল স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে।
ভারতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে থাকা সোমনাথ মন্দিরের উদ্দেশে এই সোমনাথ যাত্রার ফ্ল্যাগ অফ করে সাংস্কৃতিক মন্ত্রী বড়া সকল যাত্রীকে অসমবাসীর পক্ষ থেকে শুভকামনা জানান।
অসম থেকে যাত্রা করা দলটির সঙ্গে অরুণাচল প্রদেশ, ত্রিপুরা ও সিকিমের যাত্রীরাও রয়েছেন। এই দলটি আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর গুজরাটে পৌঁছাবে এবং ৩ অক্টোবর পুনরায় ফিরে এসে গুয়াহাটি পৌঁছাবে।
সোমনাথ মন্দিরের উদ্দেশে ট্রেন যাত্রা শুরুর এই অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিক্রমা দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব ড. বি কল্যাণ চক্রবর্তী, সাংস্কৃতিক অধিকরণের অধিকর্তা রাহুল চন্দ্র দাস সহ সাংস্কৃতিক বিভাগের বহু আধিকারিক ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।












