বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী উপন্যাস ‘নৌকাডুবি’-কে মঞ্চে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করতে চলেছে ব্যতিক্রম গ্রুপ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস এবং বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার ঋতুপর্ণ ঘোষের চিত্রনাট্য অবলম্বনে নির্মিত এই নাটকের নাট্যরূপ দিয়েছেন বিপ্লব দাস এবং নির্দেশনা দিয়েছেন সায়ন বিশ্বাস। আগামী ৭ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫টায় গুয়াহাটির পাঞ্জাবাড়িস্থিত শ্রী শ্রী মাধবদেব আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাগৃহে (শ্রীমন্ত শংকরদেব কলাক্ষেত্র) নাটকটি মঞ্চস্থ হবে।
১৯০৬ সালে ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত ‘নৌকাডুবি’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম জনপ্রিয় উপন্যাস। প্রেম, বিরহ, ভাগ্য, সামাজিক বাধ্যবাধকতা, পরিচয়ের সংকট এবং নৈতিকতার টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই কাহিনির প্রধান চরিত্র হেমনলিনী, রমেশ, কমলা ও নলিনাক্ষ। মানুষের সম্পর্ক ও নিয়তির জটিল টানাপোড়েনের এই আখ্যানকে ঋতুপর্ণ ঘোষ ২০১১ সালে তাঁর চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যের মাধ্যমে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরেছিলেন। সেই চিত্রনাট্য অবলম্বনেই এবার ‘নৌকাডুবি’ মঞ্চে রূপ পেয়েছে।
নাট্যরূপ দিয়েছেন বিপ্লব দাস এবং সম্পাদনা করেছেন কল্পিতা দেব। প্রযোজনা করেছে আজকের প্রজন্ম থিয়েটার, শিলচর, আসাম। এই প্রযোজনার জন্য বিবর্তন থিয়েটারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়েছে। নির্দেশনায় রয়েছেন সায়ন বিশ্বাস। প্রযোজনাটির অন্যতম বিশেষত্ব হল বরাক উপত্যকা ও কলকাতার শিল্পীদের যৌথ সাংস্কৃতিক প্রয়াস। নাট্যকার, নির্দেশক ও অধিকাংশ কুশীলব আসামের বরাক উপত্যকার হলেও নাটকটির সঙ্গীতায়োজন ও আবহ নির্মাণ হয়েছে কলকাতায়। ‘দোহার’-এর সুদীপ্ত চক্রবর্তী সৌম্য কলকাতার ‘প্রসাদ কহে’ স্টুডিওতে সঙ্গীতায়োজন ও আবহ নির্মাণের দায়িত্ব পালন করেছেন। কণ্ঠ দিয়েছেন ভূমিকা গঙ্গোপাধ্যায় ও সুতীর্থ চক্রবর্তীর মতো তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় শিল্পীরা। বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনেও যুক্ত হয়েছেন বাংলা ও কলকাতার একাধিক পরিচিত শিল্পী।
নাটকটির আবহ পরিকল্পনায় রয়েছেন সেবায়ন রায়চৌধুরী ও শোভন দাস। আলো পরিকল্পনায় রূপরাজ দেব, মঞ্চ পরিকল্পনায় অঙ্কন কংসবণিক এবং রূপসজ্জায় স্বপনকান্তি কর। বরাক উপত্যকার নাট্যকর্মীদের সৃজনশীল প্রয়াসের সঙ্গে কলকাতার শিল্পীদের অভিজ্ঞতা ও সঙ্গীতভাবনার মেলবন্ধনে ‘নৌকাডুবি’ এক বিশেষ সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা হয়ে উঠতে চলেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য ও ঋতুপর্ণ ঘোষের সৃষ্টিশীল ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে এই প্রযোজনা দর্শকদের সামনে তুলে ধরবে প্রেম, পরিচয়, নিয়তি ও মানবিক সম্পর্কের এক চিরন্তন গল্প।
এই বিশেষ প্রযোজনা সম্পর্কে ব্যতিক্রম গ্রুপের কর্ণধার ড° সৌমেন ভারতীয়া বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নৌকাডুবি’ শুধু প্রেম ও সম্পর্কের গল্প নয়, এটি মানুষের নিয়তি, পরিচয়, দায়িত্ববোধ এবং নৈতিকতার এক গভীর মানবিক আখ্যান। ঋতুপর্ণ ঘোষ তাঁর অনন্য চলচ্চিত্রভাবনার মধ্য দিয়ে এই কাহিনিকে যে নতুন মাত্রা দিয়েছিলেন, সেই সৃষ্টিকে মঞ্চে নিয়ে আসা নিঃসন্দেহে একটি সাহসী ও সৃজনশীল প্রয়াস। বিশেষ করে বরাক উপত্যকার শিল্পীদের সঙ্গে কলকাতার শিল্পীদের এই যৌথ সাংস্কৃতিক উদ্যোগ অত্যন্ত আনন্দের। সাহিত্য, চলচ্চিত্র ও নাট্যশিল্পের এই মেলবন্ধন আমাদের সাংস্কৃতিক পরিসরকে আরও সমৃদ্ধ করবে। রবীন্দ্রনাথ ও ঋতুপর্ণ ঘোষের মতো দুই কালজয়ী সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের প্রতি এই প্রযোজনা এক আন্তরিক শ্রদ্ধার্ঘ্য হয়ে উঠুক-এই কামনা করি।”
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে প্রবেশ অবাধ।













