আতঙ্কের কুড়ে ঘর সারা পশ্চিমবঙ্গ, এরপরে অসম, ত্রিপুরা ও বড় শহর গুলি

৫ গোয়েন্দা সংস্থার চাঞ্চল্যকর তথ্য মানস বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন দিল্লি : অনেকেরই মনে আছে বাংলাদেশের এক সাংবাদিক বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের ভয়ঙ্কর নিষিদ্ধ জেএমবির খুংখার জিহাদী পাঁচ বছর আগেই অভিষেক ব্যানার্জীর আশ্রয়ে রয়েছে।ঢাকার সাংবাদিকের ভয়ানক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর থেকেই কেন্দ্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সক্রিয় অভিযান চালায়। পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অভূতপূর্ব জয়লাভের পর বাংলাদেশে একের পর এক…

৫ গোয়েন্দা সংস্থার চাঞ্চল্যকর তথ্য

মানস বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন দিল্লি : অনেকেরই মনে আছে বাংলাদেশের এক সাংবাদিক বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের ভয়ঙ্কর নিষিদ্ধ জেএমবির খুংখার জিহাদী পাঁচ বছর আগেই অভিষেক ব্যানার্জীর আশ্রয়ে রয়েছে।ঢাকার সাংবাদিকের ভয়ানক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর থেকেই কেন্দ্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সক্রিয় অভিযান চালায়।

পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অভূতপূর্ব জয়লাভের পর বাংলাদেশে একের পর এক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল দেখা যাচ্ছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর পরাজয়ের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গের শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে kiবিষোদগার করে বড় বড় ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে মিছিল সারা ঢাকা শহর পরিক্রমা করে বাংলাদেশের ১৭ কোটি জনতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ দখলের হুমকি দিয়েছিল কট্টরবাদী মৌলবাদীরা।

এরই মধ্যে বাংলাদেশের এক সাংবাদিক একটি বোমা বিস্ফোরণ করে মন্তব্য করেছেন প্রাক্তন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ” জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ ( জে এম বি) ” কে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছিল। এই সংগঠনের শীর্ষ জঙ্গি জেল ভেঙে দলবল নিয়ে উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছে ৫ বছর আগে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক ব্যানার্জী তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে রেখেছেন। সেখানে এই জঙ্গি গোষ্ঠীকে দিয়ে অনেক কুকীর্তি করানো হচ্ছে। তার এই মন্তব্যে যথেষ্ট চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ  একটানা পশ্চিমবঙ্গে মাটি কামড়ে পড়ে থাকলেন কেন? প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই প্রথম এতো ঘন ঘন নির্বাচনী প্রচারে পশ্চিমবঙ্গে এলেন কেন ?

এর নেপথ্য কাহিনী শুনলে অনেকেই চমকে উঠবেন। কেন্দ্র সরকার, সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দারা ছাড়াও মোট ৫ টি গোয়েন্দা সংস্থা এক ভয়ঙ্কর চিত্র তুলে ধরেছিল জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা অজিত দোভালের কাছে । তাতে বলা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কুখ্যাত দাগী জিহাদীরা বিভিন্ন জেলায় অসংখ্য ঘাঁটি গেড়ে সন্ত্রাস চালিয়ে যাবার চক্রান্ত করছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন ছাড়াও পাকিস্তানের লস্কর, জইস ই মহাম্মদ , আই এস আই যেমন জড়িত তেমনি আমেরিকার ডিপ স্টেট ও পর্দার আড়ালে থেকে ঘুঁটি সাজাচ্ছে।

ভারতের পাঁচটি জায়গায় নির্বাচন হয়েছে এই দফায়। এর আগেও বহু জায়গায় নির্বাচন হয়েছে। তারকা প্রচারকেরা যান অবশ্যই প্রচারে, কিন্তু দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এভাবে মাটি কামড়ে পড়ে থেকে কোন রাজ্যে লড়াই করতে দেখেছেন? দেখেন নি।
কারণ পশ্চিমবঙ্গের লড়াইটা শুধু নির্বাচনী লড়াই ছিল না৷ এই লড়াই ছিল দেশের সুরক্ষার লড়াই। এই লড়াইতে হারলে এই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন লাগু করতে হত, অন্য কোন উপায় ছিল না। অন্যথায় সারা দেশই সংকটের সম্মুখীন হয়ে পড়তো।
গত পাঁচ বছর ধরে আজব আজব সব থিওরি শোনা যাচ্ছিল বিজেপির সম্পর্কে। মমতার সাথে সেটিং আছে। মমতার কাছে নাকি মোদী-শাহের ভিডিও আছে। কত কী! বামেরা তো এনিয়ে বেশি সোচ্চার ছিল। চরম পরিস্থিতির কথা জেনেও নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ  নির্বাচিত মমতার সরকারের ওপর সরাসরি আঘাত হানতে চান নি অজিত ডোভালের পরামর্শে। মোক্ষম গণতান্ত্রিক উপায়েই জবাব দিতে চেয়েছিলেন তারা।

২০২১ সালেই জিততে পারতো বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে

২০২১ সালেই জিততে পারতো বিজেপি। বিজেপি বুঝতেই পারে নি এই ভয়ংকর  রাজ্য সরকার কী কী কারচুপি করতে পারে নির্বাচনে। কারণ ভারতের অন্য কোথাও এইরকম ভয়ংকর ক্রিমিনাল, দেশদ্রোহী সরকার আসে নি কখনো৷ যখন বুঝেছে, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে! হিন্দুদের প্রাণ যা গেছে সে তো গেছেই, অস্বাভাবিক হারে অনুপ্রবেশ হয়েছে। এবং এই অনুপ্রবেশ শুধু সাধারণ মুসলিম বাংলাদেশীর নয়। ত্রিস্তরীয় অনুপ্রবেশ৷ সাধারণ মানুষ ঢুকবে, যারা দাঙ্গা করবে। ওয়াজ করার জন্য আনা হবে এমন লোকেদের, যারা সমানে উস্কাবে। আর এই সবের মধ্যে চুপিচুপি ঢুকিয়ে নেওয়া হবে সন্ত্রাসবাদীদের।

ঢাকা সেল খোলা হয়েছে এজন্য বহু দিন আগেই। কী বিশাল খেলা চলছিল ভেতরে ভেতরে!! পাকিস্তানের আই এস আই  সারাসরি অস্ত্র পাঠাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরে। সেখান থেকে অস্ত্র নিয়ে লস্করের বাংলা শাখা এবিটির জিহাদী সন্ত্রাসবাদীরা  ঢুকছে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত পেরিয়ে। আর অন্যদিকে  চিন শকুনের চোখ রেখে বসে আছে চিকেন নেকের ওপর।

৫ টি শীর্ষ স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের পর ২০২৫ এর শেষের দিকে এই ষড়যন্ত্র নজরে আসে ভারত সরকারের। সঙ্গে সঙ্গে বিশাল সেনা প্ল্যাটুন পাঠানো হয়  শিলিগুড়িতে, মনে থাকতে পারে অনেকেরই। প্রায় একই সময়ে কোর্ট মমতা সরকারকে বারবার ভর্ৎসনা করতে থাকে সীমান্তে জমি না দেওয়ার জন্য৷

এই পুরো  ঘটনাগুলি সবই সংশ্লিষ্ট । একে অপরের সঙ্গে জড়িত । কিছুদিন আগে বাংলাদেশের এই সাংবাদিকের মন্তব্যে নিষিদ্ধ জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের ( জে এম বি) পলাতক জিহাদিদের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান এবং অভিষেক ব্যানার্জীর আশ্রয় দানের কথা প্রকাশ্যে এসে পড়ে। এই  বঙ্গেই শান্তিতে বসে বসে তারা প্ল্যান বানায় ।আর তারপর ছড়িয়ে যায় সারা দেশে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ থেকে লস্করের পাকিস্তানী জিহাদী সন্ত্রাসবাদী সহ আটজন আটক হয়েছে, যারা বারবার পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে অস্ত্র সহ।

এরা বছরের পর বছর এই কাজ করে এসেছে ঠান্ডা মাথায়। যাতে দেশের সিকিউরিটি বিপর্যস্ত হয়। যাতে সাধারণ জনগণ ট্রেনে বাসে যেতে যেতে, কাফেতে বসে থাকতে থাকতে বা মন্দিরে গিয়ে মরে যেতে পারে সন্ত্রাসবাদীদের  গুলিতে বা তার শরীরে বাঁধা রিমোট কন্ট্রোল বোমায়।  ঠিক মুম্বইয়ের মত। অক্ষরধাম মন্দিরের মত। আর এটাই হয়েছে মালদা,মুর্শিদাবাদ, ডায়মন্ড হারবারের ফলতা ও অন্যত্র। সামসেরগঞ্জে দুই হিন্দু মূর্তি বানানোর কারিগর হারাধন দাস, চন্দন দাসকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে কুপিয়ে কাটা হয়েছে। মমতার পুলিস দোষীদের কোণ শাস্তি দেয় নি। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র চিকিৎসক অভয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর তথ্য ফাঁস করায় তাকে গনধর্ষন করে হত্যা করা হয়েছে। দোষীদের আড়াল করার জন্য মমতা সরকার কয়েকশ কোটি টাকা খরচ করেছে শীর্ষ আদালতে। নতুন সরকার গঠনের পরদিন থেকেই মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পরামর্শে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে ঘৃণ্য চক্রান্তের জাল ছিঁড়তে শুরু করেছেন।

এটার  আশু প্রয়োজন ছিল, ভারত সরকার জানতো। এই মমতা সরকার কিছুতেই সন্ত্রাসবাদ আটকানোর কাজে সাহায্য করবে না সেটাও  কেন্দ্র সরকার জানত। কারণ তা করতে গেলে মুসলিমদের গ্রেফতার করতে হয়।

শুভেন্দু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন রাষ্ট্রাবাদী মুসলিমদের কোনোই আশংকা নেই। লড়াইটা দেশদ্রোহীদের বিরুদ্ধে। সেটা হিন্দুই হোক বা মুসলিম হোক। তাদের কোন রেয়াত দেওয়া হবে না। এখনও আল কায়দার নামে শুভেন্দু অধিকারীকে হুমকি দিয়ে ভয়ঙ্কর পরিণতির কথা বলেছে কিছু ঘরে বাইরের জঙ্গি গোষ্ঠী। ইমেলেও আলকায়দার নামে হুমকি দিয়েছে। শুধু শুভেন্দু অধিকারী নন,প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এখন পর্যন্ত কয়েকজন পাকিস্তানি ও বাংলাদেশী জিহাদীকে গ্রেফতার করা হয়েছে দিল্লি, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড,রাজস্থান , উত্তর প্রদেশ ও পাঞ্জাব থেকে। এমন বিশাল সন্ত্রাসের ঝাঁড় এখনো বিভিন্ন জায়গায় গাঢাকা দিয়ে ওৎ পেতে রয়েছে সুযোগের অপেক্ষায়। এদের মদত দিচ্ছে প্রাক্তন তৃণমুল নেতৃত্ব ও আমেরিকার জর্জ সোরসের ডিপ স্টেট। তারা দালাল ছড়িয়ে রেখেছে বিভিন্ন দলে। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো তিরিং বিড়িং করছে ডিপ স্টেটের দালাল আরশোলা জনতা পার্টি ও বাম দলগুলি সহ বিরোধী দল গুলি।

আগের সরকার এই জঙ্গিদের প্রশ্রয় দিয়ে এসেছে এটা সর্বজনবিদিত। এরা হিন্দুদের খুন করিয়ে দেবে অনায়াসে, কিন্তু মুসলিম টেররিস্টদের গ্রেফতার হতে দেবে না।
আটকানোর দুটিই রাস্তা ছিল কেন্দ্রের কাছে। এক, এই রাজ্যে বিধান সভার নির্বাচনে জেতা। দুই, না জিততে পারলে কাশ্মীরের মত স্থায়ীভাবে এখানে সেনা নামানো।
কেন্দ্র সরকার প্রথম অপশনটা বিধানসভা নির্বাচনের আগেই পরীক্ষা করেছেন। হারলে দ্বিতীয়টা হতো। এটা আশংকা করেই দক্ষ নতুন রাজ্যপালকে আনা হয়েছিল এবং SIR এর ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। এখন দিল্লির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ আসন্ন পৌরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়লাভ করা। সেটাকে রুখতেই মুখ্য কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেস কুমারকে শীর্ষ আদালতের নির্দেশে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনী প্রয়াসকে কবরে পাঠাতে তার গ্রেফতারির দাবিতে পায়তারা করছে বিরোধীরা।
এদিকে বিরোধীদের হট্টগোলের মধ্যে জিহাদীরা তাদের দাবার ঘুঁটি সাজিয়ে যাচ্ছে।
গতকালও শিলিগুড়ির চিকেন নেকের কাছেই কয়েকজন আফগান ও পাকিস্তানি জঙ্গি ধরা পড়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হাতে। তারা দীর্ঘ বছর ধরে সেখানে অস্থায়ী জঙ্গি শিবির থেকে সারা এলাকায় রেকি করে যাচ্ছিল। ভুঁয়া ভারতীয় পরিচয় পত্র, আধার কার্ড রয়েছে তাদের কাছে। গোয়েন্দারা প্রশ্ন করেছেন,এই জালি পরিচয় করিয়ে তারা কোথা থেকে পেয়েছে? দুএকজন হিন্দু সম্প্রদায়ের বলেও পরিচয় পত্রে রয়েছে। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা গেছে তারা আফগানিস্তান ,পাকিস্তানও বাংলাদেশের মুসলিম। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের নিখুঁত পরিকল্পনায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *