বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : অসমের সংবাদপত্রের ২০০ বছরের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী বিধি উঠে যাওয়ার ৫ মাস পরেও রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি সংবাদপত্রগুলিকে বিজ্ঞাপন না দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ইন্ডিয়ান ফেডারেশন অফ স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম নিউজপেপারসের অসম রাজ্য কমিটির সভাপতি প্রভাত চন্দ্র শর্মা এবং সাধারণ সম্পাদক এম সাইফুদ্দিন আহমেদ এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ করেছেন।
বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য গত ১৫ মার্চ থেকে তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের সঞ্চালক সব সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিলেন। কিন্তু ৫ মে নির্বাচনী বিধি উঠে যাওয়ার পরেও আজ পর্যন্ত, প্রায় ৬ মাস ধরে, বরাক ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে প্রকাশিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি পত্রিকাগুলিকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়নি।
সংগঠনের অভিযোগ, জনসংযোগ বিভাগের সঞ্চালক রাজ্য সরকারের ২০০৮ সালের বিজ্ঞাপন নীতি এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালতের ২০১৫ সালের ১৩ মে-র নির্দেশ অমান্য করে মুষ্টিমেয় কয়েকটি দৈনিক পত্রিকাকেই নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিয়ে যাচ্ছেন।
এর ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পত্রিকায় কর্মরত প্রায় ১৫০০ সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীর পরিবারের ভরণ-পোষণ এবং জীবন-জীবিকা আজ হুমকির মুখে পড়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মফস্বলের এই পত্রিকা ও মাসিক পত্রিকা গুলো নতুন লেখক, কবি-সাহিত্যিক তৈরি করা এবং স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নতিতে বড় ভূমিকা রেখে চলেছে। পাশাপাশি সরকারের সব উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে মফস্বলের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।
অসমের মতো উন্নয়নশীল রাজ্যে এখনও শিল্প-কারখানা তেমন সক্রিয় হয়ে ওঠেনি যে বেসরকারি বিজ্ঞাপনে কাগজ চলবে। সরকারি সাহায্য ছাড়া কোনো সংবাদপত্র চালানোই অসম্ভব। তাই করোনা অতিমারিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এই ক্ষুদ্র ও মাঝারি পত্রিকাগুলিকে আগের মতো শীঘ্রই নিয়মিত বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছে সংগঠনটি।












