,

ব্রিকস মঞ্চ থেকে বিশ্বকে শান্তির বার্তা মোদীর, বললেন – ‘যুদ্ধ নয়, আলোচনাতেই সমাধান, সমুদ্রপথের স্বাধীনতা রক্ষা করতেই হবে’

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি : ইরান-আমেরিকা উত্তেজনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ছায়ার মধ্যেই ভারতে আয়োজিত হল ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। শুক্রবার এই সম্মেলনের মঞ্চ থেকেই বিশ্ব বাণিজ্য ও সমুদ্র নিরাপত্তা নিয়ে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নৌচলাচলের স্বাধীনতা এবং নাবিকদের নিরাপত্তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধ সমুদ্রপথে…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি : ইরান-আমেরিকা উত্তেজনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ছায়ার মধ্যেই ভারতে আয়োজিত হল ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। শুক্রবার এই সম্মেলনের মঞ্চ থেকেই বিশ্ব বাণিজ্য ও সমুদ্র নিরাপত্তা নিয়ে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এদিন ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নৌচলাচলের স্বাধীনতা এবং নাবিকদের নিরাপত্তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধ সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও নাবিকদের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। এই ধরনের সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক পথে আলোচনাই একমাত্র পথ। আলোচনার মাধ্যমেই যে কোনও সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।”

কেন এই বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ:

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদীর এই বক্তব্য দুটি ক্ষেত্রকে নিশানা করেছে।

১. রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: প্রায় ৪ বছর ধরে চলছে এই যুদ্ধ। এর ফলে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি ইউক্রেনে ভারতীয় জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতকে আমেরিকার অতিরিক্ত শুল্কের চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মোদীর আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান রাশিয়ার উদ্দেশ্যে বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

২. হরমুজ প্রণালীতে সংকট: ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য হরমুজ প্রণালী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়েই আসে। ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে এই প্রণালীতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। গত কয়েক মাসে এই পথে ভারতীয় তেলবাহী জাহাজের উপর একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুও হয়েছে। তাই কারও নাম না করলেও হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বার্তা দিয়ে পরোক্ষে ইরানকেও সতর্ক করলেন মোদী।

মোদী স্পষ্ট করেন, মধ্যপ্রাচ্যে হরমুজ হোক বা ইউরোপে কৃষ্ণসাগর, সমুদ্রপথে যে কোনও ধরনের বাধা গোটা বিশ্বের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।

ব্রিকস বনাম জি-৭:

এদিন বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্রিকসের ক্রমবর্ধমান শক্তির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান সমস্যার মাঝেও ভারত অর্থনৈতিক সেতু নির্মাণ করে চলেছে। প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, স্টার্টআপ ও MSME-দের জন্য বাজার, অর্থায়ন ও বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে জানান, ব্রিকস দেশগুলোর জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ, বৈশ্বিক জিডিপির ৪০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ২৫ শতাংশেরও বেশি। যৌথভাবে ব্রিকসের জিডিপি এখন দ্বিগুণ গতিতে বাড়ছে। যেখানে বিশ্বের জিডিপি ২.৫ শতাংশ হারে বাড়ছে, সেখানে ব্রিকস দেশগুলোর জিডিপি বৃদ্ধির হার ৪ শতাংশ। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্রিকস দেশগুলোর অবদান ৩৮ শতাংশ, যেখানে জি-৭ দেশগুলোর অবদান মাত্র ২৭ শতাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *