,

লোকসংগীতের সুরসাধক কালিকা প্রসাদের জন্মবার্ষিকীতে ব্যতিক্রমের শ্রদ্ধার্ঘ্য

গুয়াহাটি, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: লোকসংগীতের জগতে তাঁর স্বতন্ত্র কণ্ঠ, সুর ও শিল্পভাবনার জন্য আজও অমলিন কালিকা প্রসাদ ভট্টাচার্য। তাঁর জন্মবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাঁকে স্মরণ করল ব্যতিক্রম। ১৯৭০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর শিলচরে জন্মগ্রহণ করা কালিকা প্রসাদ ভট্টাচার্য বাংলা লোকসংগীতকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ২০১৭ সালের ৭ মার্চ মাত্র…

গুয়াহাটি, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: লোকসংগীতের জগতে তাঁর স্বতন্ত্র কণ্ঠ, সুর ও শিল্পভাবনার জন্য আজও অমলিন কালিকা প্রসাদ ভট্টাচার্য। তাঁর জন্মবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাঁকে স্মরণ করল ব্যতিক্রম। ১৯৭০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর শিলচরে জন্মগ্রহণ করা কালিকা প্রসাদ ভট্টাচার্য বাংলা লোকসংগীতকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ২০১৭ সালের ৭ মার্চ মাত্র ৪৬ বছর বয়সে তাঁর অকালপ্রয়াণ সংগীতজগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করে।

কালিকা প্রসাদের সঙ্গে ব্যতিক্রমের সম্পর্ক ছিল দীর্ঘদিনের এবং অত্যন্ত আন্তরিক। ব্যতিক্রমের আয়োজিত একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি সাদরে উপস্থিত থেকেছেন এবং তাঁর অসাধারণ পরিবেশনার মাধ্যমে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন। তাঁর সঙ্গে ব্যতিক্রমের এই সম্পর্ক শুধুমাত্র একজন শিল্পী ও একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল সংগীত, সংস্কৃতি ও মানুষের প্রতি অভিন্ন ভালোবাসার এক আন্তরিক বন্ধন।

ব্যতিক্রমের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কালিকা প্রসাদের উপস্থিতি আজও সংগঠনের সদস্যদের কাছে বিশেষ স্মৃতি হয়ে রয়েছে। তাঁর সহজ-সরল ব্যক্তিত্ব, আন্তরিক ব্যবহার এবং লোকসংগীতের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা তাঁকে আরও আপন করে তুলেছিল। তাঁর কণ্ঠে বাংলার মাটি, মানুষের জীবন, লোকজ অনুভূতি ও শিকড়ের সুর এক অনন্য মাত্রা পেয়েছিল।

ব্যতিক্রমের কর্ণধার ড.সৌমেন ভারতীয়া বলেন, “কালিকা প্রসাদ ভট্টাচার্যের সঙ্গে ব্যতিক্রমের সম্পর্ক আমাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান একটি অধ্যায়। তিনি বহুবার আমাদের অনুষ্ঠানে এসেছেন এবং প্রতিবারই তাঁর উপস্থিতি আমাদের আয়োজনকে অন্য এক মাত্রা দিয়েছে। একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর অসাধারণ প্রতিভার পাশাপাশি মানুষ হিসেবেও তাঁর আন্তরিকতা ও সহজ-সরল ব্যবহার আমাদের মুগ্ধ করত। আজ তিনি আমাদের মধ্যে শারীরিকভাবে নেই, কিন্তু তাঁর সঙ্গে কাটানো সেই মুহূর্তগুলি এবং তাঁর সৃষ্ট সংগীত আমাদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। কালিকা প্রসাদ লোকসংগীতকে শুধু পরিবেশন করেননি, তিনি তার শিকড়কে নতুন প্রজন্মের হৃদয়ের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। তাঁর সৃষ্টিশীলতা ও সংগীতভাবনা আগামী দিনেও অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে। তাঁর জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করা আমাদের কাছে শুধু একজন প্রয়াত শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানানো নয়, বরং বাংলার লোকসংগীতের সেই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকেও সম্মান জানানো, যার সঙ্গে তিনি নিজের জীবন ও সৃষ্টিকে গভীরভাবে যুক্ত করেছিলেন।”

জন্মবার্ষিকীতে ব্যতিক্রমের পক্ষ থেকে লোকসংগীতের এই অনন্য শিল্পীর স্মৃতির প্রতি জানানো হল গভীর শ্রদ্ধা। তাঁর সুর, সৃষ্টি ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার আগামী প্রজন্মের মধ্যেও একইভাবে বেঁচে থাকুক-এই প্রত্যাশাই রইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *