,

উত্তর-পূর্বে মূলধনী বিনিয়োগে বড় ধাক্কা, দিল্লিতে অর্থমন্ত্রী সীতারমনের সঙ্গে হিমন্ত ও কনরাড সাংমার যৌথ বৈঠক

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মূলধনী ব্যয় ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বুধবার নয়াদিল্লির কর্তব্য ভবনে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন, অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমা। বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল EAP বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল Externally Aided Projects (EAP) বা বাহ্যিক…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মূলধনী ব্যয় ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বুধবার নয়াদিল্লির কর্তব্য ভবনে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন, অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমা।

বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল EAP

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল Externally Aided Projects (EAP) বা বাহ্যিক সাহায্যপ্রাপ্ত প্রকল্প। অসম ও মেঘালয়ে চলমান EAP প্রকল্পগুলির গতি ত্বরান্বিত করা এবং নতুন প্রকল্পের জন্য আরও অর্থ বরাদ্দের দাবি জানানো হয় দুই রাজ্যের পক্ষ থেকে।

বিশেষ করে –
১. রাস্তা, সেতু ও যোগাযোগ ব্যবস্থা
২. শহর ও গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন
৩. স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক খাতে নতুন বিনিয়োগের পথ খোলা

এই তিনটি ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সহযোগিতায় কীভাবে কাজ দ্রুত শেষ করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

কী বললেন মুখ্যমন্ত্রীরা?

বৈঠকের পর অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা জানান, “অসম ও মেঘালয়ের পক্ষ থেকে EAP-র কাজে নতুন করে জোর দেওয়ার জন্য আমরা অর্থমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছি। এর ফলে দুই রাজ্যেই পরিকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নের কাজে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।”

মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমাও উত্তর-পূর্বের আন্তঃগাঁথনি ও সামাজিক খাতে নতুন বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রীর ইতিবাচক আশ্বাস

সূত্র অনুযায়ী, দুই মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

৯ হাজার কোটি থেকে ৭৬ হাজার কোটির উল্লম্ফন

বৈঠকের প্রেক্ষাপটে EAP-তে কেন্দ্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধির চিত্রও সামনে আসে। গত জুনে শিলংয়ে আয়োজিত উত্তর-পূর্বের EAP সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন –

২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে উত্তর-পূর্বে EAP-র আওতায় সাহায্য ছিল মাত্র ৯ হাজার কোটি টাকা।
২০১৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রীর মতে, EAP-কে শুধু অর্থ জোগানের ব্যবস্থা হিসেবে দেখলে হবে না। স্থানীয় উৎপাদনকে বড় বাজারে পৌঁছে দেওয়া, মানুষের জীবিকার সুযোগ বাড়ানো এবং উত্তর-পূর্বের ভৌগোলিক অবস্থানকে অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় বদলে দেওয়াই এর আসল লক্ষ্য।

রাজনৈতিক মহলের মতে, অসমকে শিল্প ও বিনিয়োগের নতুন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার যে উদ্যোগ হিমন্তবিশ্ব শর্মা সরকার নিয়েছে, তার জন্য এই অতিরিক্ত অর্থ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই বৈঠক অসম ও মেঘালয় সহ সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *