,

আসামে ৯ ঘণ্টায় ৩৩০ প্রতারক গ্রেফতার, পুলিশের রাজ্যজুড়ে বড় অভিযান

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ভোর ৩টা থেকে অভিযান, গ্রেফতারের তালিকায় শীর্ষে কাছাড়, তদন্তে ডিজিপি হরমীত সিং বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি:  রাজ্যজুড়ে প্রতারণা, ছদ্মবেশ ধারণ এবং তোলাবাজির অভিযোগে জড়িত নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালিয়ে শনিবার মাত্র নয় ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৩৩০ জন সন্দেহভাজন প্রতারক, ছদ্মবেশী এবং দালালকে শনাক্ত ও আটক করেছে আসাম পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার নির্দেশের পর ভোর…

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ভোর ৩টা থেকে অভিযান, গ্রেফতারের তালিকায় শীর্ষে কাছাড়, তদন্তে ডিজিপি হরমীত সিং

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি:  রাজ্যজুড়ে প্রতারণা, ছদ্মবেশ ধারণ এবং তোলাবাজির অভিযোগে জড়িত নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালিয়ে শনিবার মাত্র নয় ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৩৩০ জন সন্দেহভাজন প্রতারক, ছদ্মবেশী এবং দালালকে শনাক্ত ও আটক করেছে আসাম পুলিশ।

মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার নির্দেশের পর ভোর ৩টা থেকে এই অভিযান শুরু হয়। আসামের পুলিশ মহানির্দেশক (ডিজিপি) হরমীত সিং সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমরা ডিজিটাল লিঙ্ক খুঁজে পেয়েছি এবং শনিবার ভোর ৩টা থেকে অভিযান শুরু হয়েছে যেখানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৩০ জনকে শনাক্ত ও আটক করা হয়েছে। সমস্ত জেলার মধ্যে কাছাড় এখনও সর্বাধিক গ্রেফতারের নিরিখে শীর্ষে রয়েছে।”

অভিযুক্তদের কার্যপদ্ধতি ব্যাখ্যা করে ডিজিপি বলেন, কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তি বিশেষ করে থানায় আসা লোকজনকে আটকে প্রশাসনিক বা আইনি প্রক্রিয়ায় সাহায্য করার প্রস্তাব দিত। অন্যরা ফোন কলে ডিএসপি, আইনজীবী এবং থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সেজে প্রতারণা করত, আবার কেউ কেউ পুলিশ কেস মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা আদায় করত।

তিনি বলেন, “ডিজিটাল গ্রেফতারের মতোই, তারা স্থানীয়ভাবে গ্রেফতারের হুমকি দিত, বাঁচার জন্য টাকা দাবি করত এবং ভয় দেখিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করত।”

ডিজিপি জানান, আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত চলছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত যাচাই প্রয়োজন হবে, কারণ হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট চালানো ব্যক্তি এবং যার নামে মোবাইল নম্বর রেজিস্টার্ড, তারা এক নাও হতে পারে।

তিনি জানান, অভিযানে শনাক্ত হওয়া বেশ কয়েকজনকে আসামের বাইরে খুঁজে পাওয়া গেছে, যাদের সিমের লোকেশন হায়দ্রাবাদ, বেঙ্গালুরু সহ বিভিন্ন জায়গার সঙ্গে যুক্ত। “অভিযানে শনাক্ত হওয়া অনেক ব্যক্তিকে রাজ্যের বাইরে খুঁজে পাওয়া গেছে, সিমের লোকেশন হায়দ্রাবাদ, বেঙ্গালুরু এবং অন্যান্য জায়গার সঙ্গে যুক্ত পাওয়া গেছে। আমরা তাদেরও ফিরিয়ে আনব,” বলেন সিং।

তিনি আরও জানান, সাদিয়া, মাজুলি এবং আরও কয়েকটি এলাকা বাদে যেখানে এখনও পর্যন্ত এ ধরনের কোনও ঘটনা ধরা পড়েনি, সারা আসাম জুড়ে এই অভিযান চলছে।

গুয়াহাটিতে দুপুর পর্যন্ত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যদিও জেলাভিত্তিক বিস্তারিত পরিসংখ্যান এখনও সংকলন করা হয়নি।

অভিযুক্ত অপরাধের সঠিক প্রকৃতি এফআইআর দায়ের এবং তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে জানান সিং। আটক হওয়া অনেকেই দল বা গ্যাং হিসাবে কাজ করছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

ডিজিপি বলেন, “আমাদের প্রচেষ্টা হল এই পরিবেশ পরিষ্কার করা যাতে নাগরিকরা কোনও অসুবিধার সম্মুখীন না হন। সেই কারণেই এই অভিযান চালানো হয়েছে এবং এখনও সক্রিয় রয়েছে।”

দিনভর জেলাভিত্তিক তথ্য আসতে থাকে। গোলাঘাটে পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে লাটু বরুয়া এবং নয়ন জ্যোতি শইকিয়া নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, এই দুজন ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত দালাল চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিল এবং এই মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।

বিশ্বনাথে চুতিয়া, বিশ্বনাথ, বেহালি, গহপুর এবং জিনজিয়া থানার অভিযানে ১০ জন কথিত প্রতারককে আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গ্রাম প্রতিরক্ষা দলের (ভিডিপি) সম্পাদক বলে জানা গেছে। ভিডিপি সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিজিপি বলেন, “এখন পর্যন্ত আমি ভিডিপি সদস্যদের বিষয়ে কোনও বিবরণ পাইনি তবে যদি তারা জড়িত থাকে তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চিরাংয়ে চারজন কথিত প্রতারককে আটক করা হয়েছে। বিজনী থানা নবী খান, আব্দুল হাই নাগরিক এবং মোজাম্মুল হককে আটক করে, অন্যদিকে কাজলগাঁও থানা রফিকুল ইসলামকে আটক করে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযান এখনও চলছে এবং আরও গ্রেফতারের সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *