নবনির্মীয়মাণ ভবনের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি, ছোট হলের নাম কামিনী কুমার চন্দ করার প্রস্তাব
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর : শিলচরের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত জেলা গ্রন্থাগার প্রেক্ষাগৃহের নাম পরিবর্তন এবং নির্মীয়মাণ ভবনের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে সরব হল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চ, শিলচর। মঞ্চ সবসময়ই সংস্কৃতির স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দাবি নিয়ে সরব হয়েছে সংগঠনটি।
১৯৬১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে দেশজুড়ে একাধিক সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল। অসমের ১৪টি জেলায় নির্মিত জেলা গ্রন্থাগার প্রেক্ষাগৃহ তারই অঙ্গ। শিলচরের এই ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহটিও সেই সময়েই নির্মিত। তাই এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এর নাম ‘রবীন্দ্র শতবার্ষিকী প্রেক্ষাগৃহ’ রাখার দাবি দীর্ঘদিনের। একই সঙ্গে গ্রন্থাগার চত্বরে যে ছোট প্রেক্ষাগৃহটি নির্মিত হচ্ছে, তার নাম বরাক উপত্যকার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতি-সাধক কামিনী কুমার চন্দের নামে ‘কামিনী কুমার চন্দ হল’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে মঞ্চ। এই দুই দাবিকে সামনে রেখে বুধবার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চের একটি প্রতিনিধি দল কাছাড়ের জেলা কমিশনার রাহুল কুমার গুপ্তার মাধ্যমে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার উদ্দেশে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপিতে মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চ ২৫টি সাংস্কৃতিক সংস্থার একটি যৌথ মঞ্চ, যা গত ২৮ বছর ধরে বরাক উপত্যকার ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। শিলচরের জেলা গ্রন্থাগার ভবন ও প্রেক্ষাগৃহের পুনর্নির্মাণ নিয়ে ইতিপূর্বে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বহুবার পত্রালাপ হয়েছে এবং একাধিকবার স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। মঞ্চের অভিযোগ, গত বছর প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে নির্মীয়মাণ ভবনের কাজ দ্রুত শেষ করে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই তা শহরের সংস্কৃতিমনস্ক নাগরিকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। এতে শহরের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে, ক্ষোভ বাড়ছে সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে। বর্তমানে শহরে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাগৃহের অভাবে নাটক, আবৃত্তি, সঙ্গীতানুষ্ঠান সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাই অবিলম্বে নির্মাণ কাজ শেষ করে ভবনটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছে মঞ্চ। এদিনের স্মারকলিপির প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য, রাজ্যসভার সাংসদ কনাদ পুরকায়স্থ, রাজ্যের মন্ত্রী কৌশিক রায়, মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল এবং শিলচরের বিধায়ক রাজদীপ রায়কে।
এদিন প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক অজয় কুমার রায়, তমাল বণিক, সঞ্জীব রায়, গোরা চক্রবর্তী, অতনু ভট্টাচার্য, মহীতোষ পাল, মনোজ দেব, সন্তোষ চন্দ, সুবীর ভট্টাচার্য, সায়ন রায় কুটন, তাপস সূত্রধর, দেবরাজ ভট্টাচার্য, জয়ন্ত কুমার দাস, গোবিন্দ শর্মা প্রমুখ।












