,

শিলচর গান্ধী ভবন ও প্রেক্ষাগৃহের বেহাল দশা : আশু সংস্কার ও এসি’র দাবিতে মন্ত্রী কৌশিক রায়কে স্মারকলিপি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চের

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর : সংস্কৃতির শহর শিলচরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী গান্ধী ভবন ও প্রেক্ষাগৃহের বর্তমান নাজেহাল ও বেহাল দশা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল শহরের সাংস্কৃতিক মহল। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে শিলচর শহর ও শহরতলীর ২৫টি সাংস্কৃতিক সংস্থাকে নিয়ে গঠিত যৌথ মঞ্চ ‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চ, শিলচর’-এর পক্ষ থেকে মঙ্গলবার আসামের মন্ত্রী কৌশিক রায়কে এক বিস্তারিত…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর : সংস্কৃতির শহর শিলচরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী গান্ধী ভবন ও প্রেক্ষাগৃহের বর্তমান নাজেহাল ও বেহাল দশা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল শহরের সাংস্কৃতিক মহল। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে শিলচর শহর ও শহরতলীর ২৫টি সাংস্কৃতিক সংস্থাকে নিয়ে গঠিত যৌথ মঞ্চ ‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চ, শিলচর’-এর পক্ষ থেকে মঙ্গলবার আসামের মন্ত্রী কৌশিক রায়কে এক বিস্তারিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। শিলচর পুর নিগমের কার্যবাহী আধিকারিকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক অজয় কুমার রায় স্বাক্ষরিত এই স্মারকলিপিতে গান্ধী ভবনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, পার্ক রোডস্থিত শিলচর গান্ধী ভবন শুধু একটি প্রেক্ষাগৃহ নয়, এটি একটি ইতিহাস। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অরুণ চন্দ গ্রন্থাগার এবং গান্ধী শান্তি প্রতিষ্ঠান। সুদীর্ঘকাল ধরে এই ভবনই বরাক উপত্যকায় শিক্ষা ও সংস্কৃতির উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে কাজ করে আসছে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চ এই ভবনের সঙ্গে শুরু থেকেই অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। একসময় শিলচর পুরসভার অনুরোধে শিলচর ডেভেলপমেন্ট অথরিটির তৎকালীন ইঞ্জিনিয়ার রাহুল দাশগুপ্তের নেতৃত্বে ভবনের মঞ্চে ড্রপসীন ও পেছনের পর্দা লাগানোর দায়িত্বও নিয়েছিল এই মঞ্চ। কিন্তু বর্তমানে এই ঐতিহ্যবাহী ভবনই এখন সাংস্কৃতিক কর্মীদের কাছে সবচেয়ে বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেন গান্ধী ভবনই একমাত্র ভরসা ?

স্মারকলিপিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এই মুহূর্তে শিলচর জেলা গ্রন্থাগারের প্রেক্ষাগৃহটি নির্মীয়মাণ অবস্থায় রয়েছে। শহরে হাতে গোনা যে দুটি বেসরকারি প্রেক্ষাগৃহ রয়েছে, তার ভাড়া এবং আনুষঙ্গিক খরচ আকাশছোঁয়া, যা ছোট ছোট সাধারণ সাংস্কৃতিক সংস্থার পক্ষে বহন করা একেবারেই দুঃসাধ্য। তাই বাধ্য হয়েই সকল সংস্থার একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে এই সরকারি গান্ধী ভবন।

কী কী সমস্যা হচ্ছে ?

১. দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার না হওয়ায় ভবনের ভেতরে আলো ও হাওয়া চলাচলের কোনো ব্যবস্থাই ঠিক নেই।
২. তীব্র গরমে প্রেক্ষাগৃহের ভেতরে হাঁসফাঁস অবস্থার সৃষ্টি হয়।
৩. আরডিআই হল থেকে নিয়ে আসা বেমানান ও অস্বস্তিকর আসন বসানো হয়েছে, যা গান্ধী ভবনের ঐতিহ্যের সঙ্গে একেবারেই যায় না।
৪. বর্ধিত ভাড়া সাধারণ সংস্থাগুলোর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই সমস্যাগুলো যে কতটা গুরুতর তার দুটি জ্বলন্ত উদাহরণও স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, “রবীন্দ্রনাথ চেতনায় উনিশ” অনুষ্ঠানে প্রতি বছরই নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এ নিয়ে বারংবার স্মারকলিপি প্রদান করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। কিছুদিন আগে শ্রীহট্ট সম্মিলনী আয়োজিত অনুষ্ঠান চলাকালীন এক শিল্পী গরম সহ্য করতে না পেরে হলের ভিতর অজ্ঞান হয়ে পড়েন। সম্প্রতি এই অঞ্চলের খ্যাতনামা নাট্য সংস্থা ‘শিলচর কালচারাল ইউনিট’ এই মঞ্চে নাটক উপস্থাপন করতে গিয়ে তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থায় পড়ে এবং তারা দর্শকদের সামনেই প্রকাশ্যে এই অব্যবস্থার প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হয়। সবমিলিয়ে গান্ধী ভবন প্রেক্ষাগৃহ এখন অনুষ্ঠানের সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে।

মঞ্চের দাবি কী ?

এই পরিস্থিতিতে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চের পক্ষ থেকে মন্ত্রীর কাছে দুটি বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে –
ক) অবিলম্বে শিলচর গান্ধী ভবন ও প্রেক্ষাগৃহের আশু সংস্কার করা হোক এবং একে একটি পূর্ণাঙ্গ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) প্রেক্ষাগৃহ হিসেবে উন্নীত করা হোক।
খ) প্রেক্ষাগৃহের ভাড়া যাতে ছোট ছোট সাংস্কৃতিক সংস্থার সাধ্যের মধ্যে থাকে, তা নিশ্চিত করা হোক।

মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক অজয় কুমার রায় জানিয়েছেন, তারা এই বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপের আশায় রয়েছেন।

এই স্মারকলিপির প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে আসামের মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল, শিলচরের সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য, রাজ্যসভার সাংসদ কনাদ পুরকায়স্থ, কাছাড়ের জেলা আয়ুক্ত, শিলচরের বিধায়ক রাজদীপ রায় এবং শিলচর পুর নিগমের কমিশনার অঙ্কুর দাসকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *