,

ভূপেন-কলকাতার সুরের সেতুবন্ধনে ‘ভূপেন হাজারিকা অ্যান্ড কলকাতা’ তথ্যচিত্রের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : ভারতরত্ন ড. ভূপেন হাজারিকার কালজয়ী সৃষ্টিকর্ম, তাঁর শিল্পীসত্তা এবং কলকাতার সঙ্গে তাঁর গভীর সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল সম্পর্ককে তুলে ধরে পূর্বোত্তর প্রাদেশিক মারওয়ারি সম্মেলন-এর উদ্যোগে আজ  বিশেষ তথ্যচিত্র ‘ভুপেন হাজারিকা অ্যান্ড কলকাতা’-র আনুষ্ঠানিক প্রকাশ গুয়াহাটি প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়। নির্মল দাসের পরিচালনায় এবং কৈলাস কাবরার প্রযোজনায় নির্মিত ‘ভূপেন হাজারিকা অ্যান্ড কলকাতা’ তথ্যচিত্রে…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : ভারতরত্ন ড. ভূপেন হাজারিকার কালজয়ী সৃষ্টিকর্ম, তাঁর শিল্পীসত্তা এবং কলকাতার সঙ্গে তাঁর গভীর সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল সম্পর্ককে তুলে ধরে পূর্বোত্তর প্রাদেশিক মারওয়ারি সম্মেলন-এর উদ্যোগে আজ  বিশেষ তথ্যচিত্র ‘ভুপেন হাজারিকা অ্যান্ড কলকাতা’-র আনুষ্ঠানিক প্রকাশ গুয়াহাটি প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়।

নির্মল দাসের পরিচালনায় এবং কৈলাস কাবরার প্রযোজনায় নির্মিত ‘ভূপেন হাজারিকা অ্যান্ড কলকাতা’ তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে এই ঐতিহাসিক ও আবেগঘন সম্পর্কের নানা দিক। কলকাতা কীভাবে ড. ভূপেন হাজারিকার শিল্পীজীবনকে প্রভাবিত করেছিল, সেখানে তাঁর কিংবদন্তিশিল্পীদের সঙ্গে সহযোগিতা, সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ড এবং তাঁর সঙ্গীত কীভাবে ভৌগোলিক সীমা অতিক্রম করে অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিল-তথ্যচিত্রটিতে সেই বিষয় গুলিই বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যচিত্রটির প্রযোজক কৈলাস কাবরা, পরিচালক নির্মল দাস, সমাজ সেবক শঙ্করলাল গোয়েঙ্কা, বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী তথা ড. ভূপেন হাজারিকার ভগ্নীপত্নী মনীষা হাজরিকা, মার ওয়ারি সম্মেলনের উপদেষ্টা ভৈরু কুমারশর্মা, বিনোদ লোহিয়া, সন্দিপ ছামিয়া, ব্যতিক্রম গ্রুপের কর্ণধার ড.সৌমেন ভারতীয়া প্রমুখ।

কৈলাশ কাবরা বলেন, “ড. ভূপেন হাজারিকার সঙ্গে কলকাতার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর এবং বহুমাত্রিক। তাঁর শিল্পীজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে কলকাতার সঙ্গে। এই তথ্যচিত্র নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ছিল সেই সম্পর্কের অজানা ও গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মের সামনে তাঁর সৃষ্টিশীল যাত্রাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা। ড. ভূপেন হাজারিকার জন্মশতবর্ষে ‘ভূপেন হাজারিকা অ্যান্ড কলকাতা’ তথ্যচিত্রটি প্রকাশ করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এটি শুধু একটি তথ্যচিত্র নয়, দুই শহর ও দুই সংস্কৃতির এক ঐতিহাসিক সেতুবন্ধনের দলিল।”

মনীষা হাজরিকা বলেন, “ভূপেনদার জীবনে কলকাতার একটি বিশেষ স্থান ছিল। কলকাতার মানুষ তাঁকে যে ভালোবাসা ও সম্মান দিয়েছেন, তা তাঁর শিল্পীজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তাঁর গান, তাঁর সৃষ্টিশীলতা এবং মানুষের সঙ্গে তাঁর আত্মিক যোগাযোগ আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে। ‘ভূপেন হাজারিকা অ্যান্ড কলকাতা’ তথ্যচিত্রটি দেখে মনে হয়েছে, তাঁর জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। জন্মশতবর্ষে এই উদ্যোগ তাঁর স্মৃতির প্রতি এক আন্তরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি।”

শঙ্করলাল গোয়েঙ্কা বলেন, “ড. ভূপেন হাজারিকা ছিলেন এমন একজন শিল্পী, যিনি সঙ্গীতের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর সৃষ্টিতে অসমের মাটি ও মানুষের কথা যেমন উঠে এসেছে, তেমনই তাঁর শিল্পের পরিসর ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র ভারতবর্ষে। কলকাতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সেই বৃহত্তর সাংস্কৃতিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই তথ্যচিত্রের মাধ্যমে সেই সম্পর্ককে স্মরণ করা এবং মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ড.ভূপেন হাজারিকার জন্মশতবর্ষে এমন উদ্যোগ তাঁর অমর সৃষ্টির প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাকে আরও গভীর করে।”

ড. সৌমেন ভারতীয়া বলেন, “ভূপেন হাজারিকা অ্যান্ড কলকাতা’ তথ্যচিত্রটি সেই ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ড. ভূপেন হাজারিকার জন্মশতবর্ষে এমন একটি তথ্যচিত্র প্রকাশ নিঃসন্দেহে তাঁর শিল্পীসত্তা ও সাংস্কৃতিক অবদানের প্রতি এক আন্তরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি। ড. ভূপেন হাজারিকার জন্মশতবর্ষ দেশজুড়ে বিভিন্নভাবে উদ্যাপিত হচ্ছে। আমরাও ব্যতিক্রমগ্রুপের পক্ষ থেকে শিলচরের বঙ্গভবনে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ১৪টি সমষ্টিকে সঙ্গে নিয়ে এই বিশেষ দিনটি উদ্যাপন করছি। বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তাঁর অমর সৃষ্টিকর্ম ও সাংস্কৃতিক আদর্শকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট শিল্পী জয়তী ভট্টাচার্য ও সন্তোষী মজুমদার। তাঁদের মনোজ্ঞ সঙ্গীত পরিবেশনা অনুষ্ঠানের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে এবং উপস্থিত দর্শক শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *