,

‘দেশটা কোনও ধর্মশালা নয়’ — অনুপ্রবেশ, মাদক ও সন্ত্রাস দমনে ২০ বছরের বড় পরিকল্পনা পেশ করলেন অমিত শাহ

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি : ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য ২০ বছরের বিশাল কর্মপরিকল্পনা পেশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবার রাজধানীতে গোয়েন্দা বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলনের শেষ দিনে তিনি এই পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সম্মেলনে তিনি অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার এবং প্রযুক্তির নতুন নতুন আন্তর্জাতিক বিপদ…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি : ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য ২০ বছরের বিশাল কর্মপরিকল্পনা পেশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবার রাজধানীতে গোয়েন্দা বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলনের শেষ দিনে তিনি এই পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সম্মেলনে তিনি অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার এবং প্রযুক্তির নতুন নতুন আন্তর্জাতিক বিপদ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির ওপর জোর দেন।

অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া বার্তা

সীমান্ত সুরক্ষাকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রথম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত আট মাসে দেশের সব স্থল সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির সঙ্গে কেন্দ্র একাধিকবার আলোচনা করেছে। রাজ্যগুলির সঙ্গে চার স্তম্ভের সমন্বিত সীমান্ত সুরক্ষা কাঠামো ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হল দ্রুততম সময়ে দেশকে সম্পূর্ণ অনুপ্রবেশকারী-মুক্ত করা।

এ প্রসঙ্গে তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “এই দেশটা কোনও ধর্মশালা নয়। এই দেশে বসবাস করার এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার কেবল ভারতের নাগরিকদেরই রয়েছে।” বেআইনি অনুপ্রবেশকারীরা জাতীয় নিরাপত্তা, দেশের অর্থনীতি এবং জনসংখ্যার ভারসাম্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বলেও তিনি সতর্ক করেন।

তিনটি বড় বিপদ থেকে মুক্তির দাবি

আগের সরকারগুলির দূরদর্শিতার অভাবকে দায়ী করে তিনি বলেন, অতীতে শাসকদলগুলি যদি মাদক পাচার, নকশালবাদ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের অশান্তিকে শুরুতেই কঠোর হাতে দমন করত, তবে দেশকে কয়েক দশক ধরে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সংকটের মুখে পড়তে হতো না। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্য পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলির যৌথ চেষ্টায় দেশের তিনটি প্রধান অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ঘাঁটি সফলভাবে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বিচার ব্যবস্থায় বড় সংস্কার

ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে তিনটি নতুন অপরাধ আইন পুরোপুরি কার্যকর করাই কেন্দ্রের প্রধান লক্ষ্য। এর ফলে নিম্ন আদালত থেকে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত যে কোনও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সর্বোচ্চ তিন বছরের মধ্যে করা সম্ভব হবে। এর ফলে অপরাধীদের সাজা দেওয়ার হার অন্তত ২৫ শতাংশ বাড়বে বলেও তিনি জানান।

মাদকমুক্ত ভারত ও প্রহার কৌশল

নিষিদ্ধ সংগঠন পিএফআইয়ের বিরুদ্ধে চালানো অভিযানকে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বিত সুরক্ষার উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। তিনি ‘প্রহার’ কৌশলকে কাগজ থেকে বের করে প্রতিদিনের নিরাপত্তা অভিযানের অংশ করার আহ্বান জানান। এতে জঙ্গি জালকে মূল থেকে উপড়ে ফেলা সম্ভব হবে।

পাশাপাশি রাজ্যগুলিকে মাদক নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা ২০২৬-২০২৯ মাঠে-ময়দানে কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, চিহ্নিতকরণ, বাধা দেওয়া এবং ধ্বংস করা — এই তিন নীতিতে মাদক পাচার সম্পূর্ণ নির্মূল করতে হবে।

প্রযুক্তি নির্ভর গোয়েন্দা নজরদারি

আধুনিক প্রযুক্তির ভূমিকা ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ ও অপরাধীর তথ্য ভাণ্ডার, বিচার ব্যবস্থার তথ্য ভাণ্ডার, জাতীয় তথ্য ভাণ্ডার এবং আঙুলের ছাপের তথ্য ভাণ্ডারকে একসঙ্গে যুক্ত করে একটি শক্তিশালী গোয়েন্দা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। তরুণ পুলিশ ও গোয়েন্দা আধিকারিকদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য সংযুক্তিকরণ এবং আচরণগত বিশ্লেষণ ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

অর্থনৈতিক অপরাধীদের দেশে ফেরানো

অর্থনৈতিক অপরাধী ও পলাতকদের ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ২৭৪ জন অর্থনৈতিক অপরাধী ও পলাতককে বিদেশ থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা বা নির্বাসিত করা সম্ভব হয়েছে।

এছাড়া বহু সংস্থার সমন্বয় কেন্দ্রের আধুনিকীকরণ ঘটিয়ে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা, জ্বালানি ও সম্পদের অনিশ্চয়তা, ভুয়ো খবর এবং কট্টরপন্থা ছড়ানোর মতো নতুন বিপদ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *