,

দক্ষিণ অসমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ‘সাউথ অসম ভূপেন্দ্র সংগীত প্রতিযোগিতা’, বিভিন্ন ভাষায় ধ্বনিত হচ্ছে ভূপেনের গান

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর : ভারতরত্ন ড. ভূপেন হাজরিকার জন্মশতবর্ষকে সামনে রেখে দক্ষিণ অসম জুড়ে আয়োজিত ‘সাউথ অসম ভূপেন্দ্র সংগীত প্রতিযোগিতা’ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ব্যতিক্রম গ্রুপের উদ্যোগে এবং মিরাকি অ্যাসোসিয়েটসের সহযোগিতায় এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ভূপেন হাজরিকার গান, তাঁর দর্শন এবং মানবতার বার্তা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য। দক্ষিণ অসমের চার…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর : ভারতরত্ন ড. ভূপেন হাজরিকার জন্মশতবর্ষকে সামনে রেখে দক্ষিণ অসম জুড়ে আয়োজিত ‘সাউথ অসম ভূপেন্দ্র সংগীত প্রতিযোগিতা’ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ব্যতিক্রম গ্রুপের উদ্যোগে এবং মিরাকি অ্যাসোসিয়েটসের সহযোগিতায় এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

ভূপেন হাজরিকার গান, তাঁর দর্শন এবং মানবতার বার্তা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য।

দক্ষিণ অসমের চার জেলা — কাছাড়, শ্রীভূমি, হাইলাকান্দি এবং ডিমা হাসাওয়ের ১৪টি বিধানসভা সমষ্টিকে কেন্দ্র করে এই প্রতিযোগিতা চলছে। ইতিমধ্যে সোনাই, লক্ষীপুর, শিলচর, বরখলা, হাইলাকান্দি, পাথারকান্দি ও দক্ষিণ করিমগঞ্জে প্রথম পর্বের প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি স্থানেই প্রতিযোগীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

এবারের প্রতিযোগিতার সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো ভাষার বৈচিত্র্য। প্রতিযোগীরা বাংলা, অসমিয়া সহ বিভিন্ন ভাষায় ভূপেন হাজরিকার কালজয়ী গান পরিবেশন করছেন, যা তাঁর গানের সর্বজনীনতাকেই তুলে ধরছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কাটিগড়া, উদারবন্দ, ধলাই, রামকৃষ্ণনগর, আলগাপুর-কাটলিছড়া, উত্তর করিমগঞ্জ ও হাফলংয়ে পরবর্তী পর্বগুলি অনুষ্ঠিত হবে।

সব সমষ্টি থেকে বাছাই করা প্রতিযোগীদের নিয়ে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে গ্র্যান্ড ফিনালে। আর ৮ সেপ্টেম্বর শিলচর বঙ্গভবনে হবে জন্মশতবর্ষের মূল অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী। সেদিন ১০০ কণ্ঠে ভূপেন্দ্র সঙ্গীতের এক বিশেষ পরিবেশনা থাকবে। বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে নগদ অর্থ, ট্রফি, পদক ও শংসাপত্র।

একই মঞ্চে বাংলার লোকসংগীতকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রখ্যাত লোকসংগীত দল ‘দোহার’কে ‘ভারতরত্ন ড. ভূপেন হাজরিকা ব্যতিক্রম আন্তর্জাতিক সংহতি সম্মান’ প্রদান করা হবে।

এই বিষয়ে মুখ্য বিচারক তথা ভূপেন হাজরিকার ভ্রাতৃবধূ বিশিষ্ট শিল্পী মনীষা হাজরিকা বলেন, গত ১১ বছর ধরে ব্যতিক্রম যেভাবে ভূপেনদার সৃষ্টিকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষ এক মঞ্চে তাঁর গান গাইছেন, এটাই তাঁর প্রতি শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ব্যতিক্রম গ্রুপের কর্ণধার ড.সৌমেন ভারতীয়া বলেন, সাতটি কেন্দ্রে যে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি তা আমাদের উৎসাহিত করেছে। এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, দক্ষিণ অসমের লুকিয়ে থাকা প্রতিভাদের তুলে আনা এবং ভূপেন হাজরিকার মাধ্যমে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার এক প্রয়াস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *