,

বিশ্বভারতী ও ইলামবাজারের জমি ফেরত চেয়ে জেলাশাসকের দ্বারস্থ পূর্ণদাস বাউল

ভুবনডাঙায় বাউল সংগ্রহশালা গড়ার পরিকল্পনা ছেলের নিজস্ব প্রতিবেদক। বোলপুর: প্রায় ১৮ বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া নিজের আশ্রম ও মন্দির-সহ জমি ফেরত চেয়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানালেন বিশিষ্ট বাউল শিল্পী পদ্মশ্রী পূর্ণদাস বাউল। একইসঙ্গে ইলামবাজার ব্লকের কামারপাড়া এলাকায় তাঁর জমি জবরদখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে জেলাশাসকের কাছেও লিখিত আর্জি জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার সিউড়িতে জেলাশাসক…

ভুবনডাঙায় বাউল সংগ্রহশালা গড়ার পরিকল্পনা ছেলের

নিজস্ব প্রতিবেদক। বোলপুর: প্রায় ১৮ বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া নিজের আশ্রম ও মন্দির-সহ জমি ফেরত চেয়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানালেন বিশিষ্ট বাউল শিল্পী পদ্মশ্রী পূর্ণদাস বাউল। একইসঙ্গে ইলামবাজার ব্লকের কামারপাড়া এলাকায় তাঁর জমি জবরদখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে জেলাশাসকের কাছেও লিখিত আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার সিউড়িতে জেলাশাসক ধবল জৈনের কাছে আবেদনপত্র জমা দেন ৮৪ বছর বয়সী বাউল শিল্পী। বুধবার দুপুরে বোলপুরের একটি সরকারি গেস্টহাউসে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিষয়টি জানান পূর্ণদাসবাবু ও তাঁর ছেলে দিব্যেন্দু দাস বাউল। বিশ্বভারতীর উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের কাছে ই-মেলেও লিখিত আবেদন পাঠিয়েছেন তাঁরা।

ভুবনডাঙার জমি নিয়ে কী অভিযোগ?
পূর্ণদাসবাবুর দাবি, শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী ক্যাম্পাস লাগোয়া ভুবনডাঙায় আড়াই থেকে তিন বিঘা জমির উপর তাঁর একটি আশ্রম ছিল। আশ্রমের ভিতরেই তিনি বাবা লোকনাথের একটি মন্দির তৈরি করেছিলেন এবং কয়েকটি বৈষ্ণব সমাধিও রয়েছে।

তাঁর অভিযোগ, ২০০৮ সালের জুলাই মাস থেকে বিশ্বভারতী ওই জমি নিজেদের বলে দাবি করে মামলা করে। পরে বসতবাড়ি ও মন্দির-সহ গোটা জমিটি বিশ্বভারতী দখল করে নিয়ে সিল করে দেয়। ফলে প্রায় ১৮ বছর ধরে মন্দির বন্ধ রয়েছে। সমাধিগুলিতেও নিয়মিত পুজো-অর্চনা হচ্ছে না।

আবেদনপত্রে তিনি মন্দিরের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়ারও অনুরোধ জানিয়েছেন।

ছেলের পরিকল্পনা: বাউল সংগ্রহশালা
দিব্যেন্দু দাস বাউল বলেন, “জায়গাটি ফিরে পেলে সেখানে একটি বাউল সংগ্রহশালা গড়ে তুলতে চাই। সেখানে বাবার পদ্মশ্রী-সহ দেশ-বিদেশের সমস্ত পুরস্কার, বাউল বিষয়ক গবেষণা ও কাজকর্ম সংরক্ষিত আকারে রাখা হবে। জায়গাটা যাতে ফিরে পাই সেজন্য আমরা বিশ্বভারতীর কাছে আবেদন করছি।”

বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, “আবেদনপত্র হাতে পেলে তারপর বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ দাবিটি বিচার করে দেখবে।”

ইলামবাজারের জমিও ফেরত চান
ইলামবাজার ব্লকের কামারপাড়া মৌজায় তাঁর প্রায় ৪ বিঘা জমি ফেরানোর দাবিও জানিয়েছেন পূর্ণদাসবাবু। তাঁর কথায়, ১৯৭৭ সালে রাস্তার ধারে ওই জমি কেনা হয়েছিল। কিন্তু ২০০৬ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে ওই জমি জবরদখল হয়ে যায়। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে প্রশাসনের উদ্যোগে জমির মাপজোক হলেও এখনও পুরোপুরি ফেরত পাননি।

দিব্যেন্দুবাবু বলেন, “এই জায়গা ফেরত পাওয়ার জন্য আগে তৃণমূল বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিংহ ও অনুব্রত মণ্ডলের কাছেও গিয়েছি। কিন্তু সেই জায়গা ফেরত পাইনি। তাই রাজ্যে পালাবদলের পর জেলাশাসকের কাছে বিষয়টি জানিয়েছি। একইসঙ্গে বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও জানানো হয়েছে।”

এ বিষয়ে জেলাশাসক ধবল জৈন বলেন, “উনি একটি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।”

পূর্ণদাসবাবুর শেষ কথা, “জীবনের শেষ পর্বে এসে আমি ওই জমি ফিরে পেতে চাই।”

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *