বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শ্রীভূমি : বরাক-ব্রহ্মপুত্রের মৈত্রীর বন্ধনকে সামনে রেখে ভারতরত্ন সুধাকণ্ঠ ড.ভূপেন হাজরিকার জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে শ্রীভূমি জেলায় ভূপেন সঙ্গীত প্রতিযোগিতার ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভিত্তিক সংগঠন ‘ব্যতিক্রম’-এর উদ্যোগে দক্ষিণ অসমের চার জেলায় বিধানসভাভিত্তিক ভূপেন্দ্র সঙ্গীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
শ্রীভূমি জেলার বাছাইপর্বের সূচি:
শ্রীভূমি জেলায় প্রতিযোগিতার বাছাইপর্ব চারটি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি বাছাইপর্ব সকাল ১০টায় শুরু হবে। একই দিন এক ঘণ্টা আগে থেকে আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে।
১. ২৩ আগস্ট, রবিবার:
পাথারকান্দি বিধানসভা: চতুরঙ্গ ক্লাব গৃহে। আয়োজক: চতুরঙ্গ
দক্ষিণ করিমগঞ্জ বিধানসভা: রুদ্রাক্ষ ক্লাব, নিলামবাজার সরস্বতী বিদ্যানিকেতনের পরিচালনায়।
২. ৩০ আগস্ট, রবিবার:
রামকৃষ্ণনগর বিধানসভা: রামকৃষ্ণ বিদ্যাপিঠের শচীন্দ্র মোহন দত্ত স্মৃতি মঞ্চে।
৩. ১ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার:
উত্তর করিমগঞ্জ বিধানসভা: শ্রীভূমি জেলা সদরের বিপিন চন্দ্র পাল স্মৃতি ভবনে।
প্রতিযোগিতার নিয়মাবলী:
প্রতিযোগিতায় তিনটি বিভাগ রাখা হয়েছে।
‘ক’ বিভাগ: ৭ থেকে ১২ বছর
‘খ’ বিভাগ: ১৩ থেকে ১৮ বছর
‘গ’ বিভাগ: ১৯ বছর ও তদূর্ধ্ব
প্রতিযোগিতায় কোনো প্রবেশমূল্য নেই। বয়সের প্রমাণপত্র সঙ্গে নিয়ে প্রতিযোগীরা ভূপেন হাজরিকার পছন্দের যে কোনো গান, যে কোনো ভাষায়, সর্বোচ্চ ৪ মিনিটের মধ্যে পরিবেশন করতে পারবে। সঙ্গতের জন্য হারমোনিয়াম, তানপুরা ও তবলা ব্যবহার করা যাবে।
প্রতিটি বাছাই কেন্দ্র থেকে মোট ৯ জন করে প্রতিযোগী চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্বাচিত হবেন।
চূড়ান্ত পর্ব: ৭ সেপ্টেম্বর, শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়
পুরস্কার বিতরণ: ৮ সেপ্টেম্বর, শিলচরের বঙ্গভবনে
আয়োজকদের বক্তব্য:
জেলা কো-অর্ডিনেটর অরূপ রায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, প্রতিটি বিভাগের বিজয়ী শিল্পীদের পুরস্কার দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিটি বিধানসভা থেকে ৫ জন প্রবীণ সঙ্গীত শিল্পীকে “ভূপেন হাজারিকা সম্মান” দেওয়া হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কো-অর্ডিনেটর শ্যামল কান্তি ভট্টাচার্য – রামকৃষ্ণনগর, সুরজিৎ সেন – পাথারকান্দি, সন্ধ্যা কর – উত্তর করিমগঞ্জ ও সৌভিক রায় – দক্ষিণ করিমগঞ্জ।
‘ব্যতিক্রম’ গ্রুপের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সৌমেন ভারতীয়া বলেন, ভারতরত্ন ভূপেন হাজারিকা শিল্প-সংস্কৃতির মাধ্যমে সমন্বয় ও ভ্রাতৃত্বের যে বার্তা দিয়ে গেছেন, তারই প্রতিফলন এই প্রতিযোগিতা। গ্রামের প্রতিভাবান শিল্পীদের মঞ্চ করে দেওয়াই আমাদের প্রয়াস।
অসমের জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পার্বত্য ও বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল এক বার্তায় ব্যতিক্রমের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দিতে ভূপেন হাজারিকার সঙ্গীতই একমাত্র মাধ্যম। তিনি দক্ষিণ অসমের ভূপেন সঙ্গীত প্রতিযোগিতার সাফল্য কামনা করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে ছাত্র-ছাত্রী সহ ভূপেন হাজরিকার গান ও সঙ্গীতের প্রতি অনুরাগী সকলকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।












