বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। কলকাতা : নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে বঙ্গবিভূষণ সম্মান ফিরিয়ে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুর বদলালেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ ওরফে নগেন্দ্র রায়।
শুক্রবার সোশাল মিডিয়ায় ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে বলছি, নেতাজি সম্পর্কে আমার অনিচ্ছাকৃত কিছু বক্তব্যের জন্য কেউ যদি মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”
তিনি ঠিক কী বলেছিলেন?
তার বক্তব্য ছিল, “শুধু মহাত্মা গান্ধি, জওহরলাল নেহরু বা কংগ্রেসের আন্দোলনের ফলেই ভারত স্বাধীন হয়েছে, এই ধারণা সঠিক নয়। কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকা ইতিহাসে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন। জার্মানির হাতে বন্দি হওয়া ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই সেনাদের নিয়েই আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠিত হয়। নেতাজি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছিলেন। আজ যদি আমি সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিই, তা হলে আমাকে এনকাউন্টার করা হবে। ব্রিটিশ আমলেও আইন ছিল। কোচবিহারের মহারাজাকে যদি স্বাধীন ভারতের সম্রাট করা হত, তবে দেশভাগ হত না। ভারত ও পাকিস্তান এক থাকত।”
রাজ্যের পদক্ষেপ ও তার প্রতিক্রিয়া:
এই মন্তব্যের পর রাজ্যজুড়ে নিন্দা ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নেতাজিকে অপমান করলে তা বরদাস্ত করা হবে না। এরপর বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকার অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ সম্মান ফিরিয়ে নেয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তিনি এই সম্মান পেয়েছিলেন।
সম্মান যাওয়ার পর প্রথমে তিনি বলেন, “যে সময়ের কথা বলেছি, তখন আমার জন্ম হয়নি। আমি নেতাজিকে অপমান করিনি। কাউকে গালাগালও করিনি। নিজের মুখ থেকে কোনও মিথ্যা কথা বা মনগড়া রূপকথা বানিয়ে বলিনি। যেটা ইতিহাসের পাতায় রয়েছে, সেটাই সাধারণ মানুষকে বলেছি। আমি অন্যায় করে থাকলে আইনি শাস্তি দেওয়া যেতেই পারে।”
কিন্তু শুক্রবার সকালে তিনি ফেসবুক ভিডিওতে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করেন।

সারসংক্ষেপ: নেতাজি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, তারপর বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহার, এবং শেষে সাংসদের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা।












