,

বিবাহিত মেয়েদেরও মিলবে ‘কমপ্যাশনেট’ চাকরি, ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি: পরিবারের রোজগেরে সদস্যের মৃত্যুর পর মানবিক কারণে চাকরির ক্ষেত্রে বিবাহিত মেয়েদের বাদ দেওয়ার নীতি এবার খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের বক্তব্য, এই নীতি সংবিধান বিরোধী এবং সমতার অধিকারের পরিপন্থী। বিচারপতি এম এম সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চ বিহার সরকারের ২০১৪ সালের একটি নিয়ম বাতিল করে এই গুরুত্বপূর্ণ রায়…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি: পরিবারের রোজগেরে সদস্যের মৃত্যুর পর মানবিক কারণে চাকরির ক্ষেত্রে বিবাহিত মেয়েদের বাদ দেওয়ার নীতি এবার খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের বক্তব্য, এই নীতি সংবিধান বিরোধী এবং সমতার অধিকারের পরিপন্থী।

বিচারপতি এম এম সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চ বিহার সরকারের ২০১৪ সালের একটি নিয়ম বাতিল করে এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে।

ঘটনার পটভূমি
বিহারের এক সরকারি কর্মী অকালে প্রয়াত হন। তাঁর বিবাহিত মেয়ে বাবার জায়গায় মানবিক কারণে চাকরির আবেদন করেন। কিন্তু রাজ্য সরকারের নীতি অনুযায়ী শুধুমাত্র অবিবাহিতা, বিবাহবিচ্ছিন্না ও বিধবা মেয়েরাই এই চাকরির জন্য বিবেচিত হবেন। এই কারণে তাঁর আবেদন নাকচ হয়। এরপর তিনি পাটনা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। সেখানেও স্বস্তি মেলেনি।

রাজ্যের যুক্তি নাকচ
বিহার সরকারের বক্তব্য ছিল, বিয়ের পর মেয়েরা শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। ফলে বাপের বাড়ির প্রতি তাঁদের দায়িত্ব ও সম্পর্ক কমে যায়। সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তি সরাসরি খারিজ করে দেয়। আদালত বলে, “বিয়ের পর মেয়েরা বাপের বাড়ির সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলে” – এই ধারণার আইনি কোনও ভিত্তি নেই।

কোর্টের পর্যবেক্ষণ
রায়ে আদালত জানায়, চাকরির ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে ফারাক করা যাবে না। শুধু অবিবাহিতা, বিবাহবিচ্ছিন্না বা বিধবা হলেই মানবিক কারণে চাকরি পাওয়া যাবে – এমন নিয়ম সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারায় থাকা সমতার অধিকারের লঙ্ঘন।

ফলে এখন থেকে পরিবারের কেউ মারা গেলে মানবিক কারণে চাকরির ক্ষেত্রে বিবাহিত মেয়েকেও অগ্রাধিকার দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *