জি-৭ মঞ্চে করমর্দন-সৌজন্য, তবে উষ্ণ আলিঙ্গন নেই; বাণিজ্য-প্রতিরক্ষা নিয়ে পার্শ্ববৈঠকের সম্ভাবনা
দিল্লি। ১৭ জুন: ফ্রান্সের ৫২তম জি-৭ শীর্ষসম্মেলনের মঞ্চে প্রায় ১৬ মাস পর মুখোমুখি হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার দুই রাষ্ট্রনেতার করমর্দন ও সৌজন্যবিনিময়ের ছবি সামনে এলেও, অতীতের মতো উষ্ণ আলিঙ্গন দেখা যায়নি।
সূত্রের খবর, শীর্ষসম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক পার্শ্ববৈঠক হতে পারে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই বৈঠকে বাণিজ্যচুক্তি, কৌশলগত সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধ-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
২০২৫-এর পর প্রথম সাক্ষাৎ
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে সাক্ষাতের পর এই প্রথম বার মুখোমুখি হলেন মোদী-ট্রাম্প। মধ্যবর্তী সময়ে অপারেশন সিঁদুর-পরবর্তী ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতিতে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার দাবি, রাশিয়া থেকে তেল কেনা, মার্কিন শুল্কনীতি ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির খসড়া নিয়ে নয়া দিল্লি-ওয়াশিংটনের ভিন্নমত প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি ভারতকে ‘মৃত অর্থনীতি’ বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।
টানাপোড়েনের মাঝেও সহযোগিতার আবহ
ওমানে উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। তবে ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী অবরোধের আবহে সামগ্রিক ভাবে নতুন করে সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে নয়া দিল্লি।
জি-৭ মঞ্চের অন্য ছবি
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে মঙ্গলবার জি-৭-এর মূল মঞ্চেও পাশাপাশি বসেছিলেন মোদী ও ট্রাম্প। রাষ্ট্রনেতাদের ফোটোসেশনের সময় মোদীর পাশে ছিলেন আয়োজক দেশ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ। একই দিনে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গেও সৌজন্যবিনিময় করতে দেখা যায় মোদীকে।
প্রসঙ্গত, সোমবার থেকে ফ্রান্সে তিন দিনের জি-৭ শীর্ষসম্মেলন শুরু হয়েছে। ভারত জি-৭-এর স্থায়ী সদস্য না হলেও, বিশেষ আমন্ত্রিত দেশ হিসেবে ধারাবাহিক ভাবে এই সম্মেলনে অংশ নেয়।












