বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। ৮ জুন: শহরের সংস্কৃতির আকাশে দশরূপক সাংস্কৃতিক সংস্থা এক প্রতিষ্ঠিত নাম। প্রতি বছর নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়তে, তাদের স্বপ্নে ডানা দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে এই সংস্থা। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। নাট্যচর্চার হাত ধরেই তরুণ মনের খোঁজ, প্রকাশ আর বিকাশের লক্ষ্যে ১৫ দিনের নিবিড় কর্মশালা ‘অন্বেষণ ২০২৬: খোঁজ, প্রকাশ, বিকাশ’ আয়োজন করতে চলেছে দশরূপক।
আগামী ১৬ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে এই কর্মযজ্ঞ। সোমবার সংস্থার কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে এই খবর জানানো হয়। উপস্থিত ছিলেন চিত্রভানু ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক অশোক সিনহা রাজকুমার, মিতালী রাজকুমারী, বলরাম দে, শুভেন্দু চক্রবর্তী, কাশী বিশ্বনাথ দাস, অর্কজ্যোতি ভট্টাচার্য, শিবায়ন দেবরায়, শিবশঙ্কর দত্ত রায় এবং আয়ুষ কর্মকার।
তরুণদের জন্যই আয়োজন:
নাট্যকলার মাধ্যমে আত্ম-উপলব্ধি, মঞ্চে অভিনব ভাবনার অন্বেষণ এবং সৃজনশীল সত্তার পূর্ণ বিকাশ – এই তিন মন্ত্র নিয়ে সাজানো হয়েছে গোটা কর্মশালা। ১৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সৃজনশীল তরুণ-তরুণীরাই এখানে অংশ নিতে পারবেন। প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে শিলচরের ‘ছোট লালসড়ক বিদ্যালয়’ হয়ে উঠবে নাট্যচর্চার পাঠশালা। প্রশিক্ষণের গুণমান অটুট রাখতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ২০ জনের মধ্যেই রাখা হয়েছে। ইচ্ছুকদের ১২ জুনের মধ্যে নাম নথিভুক্ত করতে অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থা।
কেরালার বিশিষ্ট শিল্পী আসছেন শিলচরে:
এবারের কর্মশালার প্রাণপুরুষ কেরালার বিশিষ্ট নাট্যনির্দেশক ও গল্পকার সোজন রোজাম্মা স্যাম। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি জাতীয় স্তরে নাট্যচর্চা ও তাত্ত্বিক গবেষণার সাথে যুক্ত। তার পরিচালিত নাটক দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ‘ভারত রঙ্গ মহোৎসব’-এ মঞ্চস্থ হয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। কেরালা সাহিত্য উৎসব ও কোচি-মুজিরিস দ্বিবার্ষিকীর মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তিনি নিজের প্রতিভার সাক্ষর রেখেছেন। তার অভিজ্ঞতা নবীন শিল্পীদের জন্য পাথেয় হয়ে থাকবে।
কর্মশালায় পারস্পরিক আলোচনা, শরীরী ভাষা, কণ্ঠের অভিনয় ও মঞ্চ কৌশলের সূক্ষ্ম দিকগুলো হাতে-কলমে শেখানো হবে।
উৎসবের মেজাজে শুরু:
কর্মশালার আগে নাট্যপ্রেমীদের জন্য দুই দিনের ‘অনুনাটক উৎসব’-এর আয়োজন করেছে দশরূপক। আগামী ১৩ ও ১৪ জুন সংস্থার ক্লাব প্রাঙ্গণে সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঞ্চস্থ হবে সাতটি নাটক।
দশরূপকের কর্তারা জানান, পরিকাঠামোগত কারণে এবার উৎসব ক্লাব প্রাঙ্গণেই সীমাবদ্ধ থাকলেও শৈল্পিক আবেদনে কোনো খামতি থাকবে না। তাদের কথায়, ‘অন্বেষণ ২০২৬’ শুধু ১৫ দিনের কর্মশালা নয়। সুস্থ শিল্পচর্চার এক বলিষ্ঠ মঞ্চ তৈরি করাই দশরূপকের মূল উদ্দেশ্য, যাতে আগামী দিনের নাট্যকর্মীরা এখান থেকেই নিজেদের পথ খুঁজে পায়।












