,

৫০তম রজনী পার করল ‘এ মাসের নাটক’ — বরাকের নাট্য ইতিহাসে নতুন মাইলফলক

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর : বরাক উপত্যকার সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায় রচিত হলো শিলচর বঙ্গভবনে। বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন, কাছাড় জেলা সমিতির নিরলস ব্যবস্থাপনায় এবং ধারাবাহিক নাট্য প্রয়াস “বঙ্গভবনে এ মাসের নাটক” গতকাল ২৩শে আগস্ট ২০২৬, শনিবার সন্ধ্যায় গৌরবের সঙ্গে ৫০তম রজনী পার করল। এই ঐতিহাসিক সন্ধ্যাকে স্মরণীয় করে রাখতে নাটক…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর : বরাক উপত্যকার সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায় রচিত হলো শিলচর বঙ্গভবনে। বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন, কাছাড় জেলা সমিতির নিরলস ব্যবস্থাপনায় এবং ধারাবাহিক নাট্য প্রয়াস “বঙ্গভবনে এ মাসের নাটক” গতকাল ২৩শে আগস্ট ২০২৬, শনিবার সন্ধ্যায় গৌরবের সঙ্গে ৫০তম রজনী পার করল।

এই ঐতিহাসিক সন্ধ্যাকে স্মরণীয় করে রাখতে নাটক শুরু হওয়ার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে এক মনোজ্ঞ সম্মাননা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সঞ্জীব দেবলস্কর। তাঁকে সহ কাছাড় জেলা সমিতির কয়েকজন বিশিষ্ট সম্মানীয় সদস্য এবং শিলচরের নাট্যশিল্পের প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্বদের উত্তরীয়, স্মারক ও পুষ্পস্তবক দিয়ে সম্মাননা জানিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়।

সম্মানিত নাট্যব্যক্তিত্বদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নাট্য নির্দেশক ও অভিনেতা চিত্রভানু ভৌমিক, বরাকের নাট্য আন্দোলনের অন্যতম স্তম্ভ মহাদেব বণিক, বিশিষ্ট নাট্যকার সুব্রত ভট্টাচার্য, নাট্য সংগঠক শেখর দেবরায় সহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দরা বলেন, যে সময়ে মানুষ থিয়েটার বিমুখ হয়ে মোবাইলে ব্যস্ত, সেই কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে নাটক মঞ্চস্থ করে ৫০টি রজনী পার করা মুখের কথা নয়। এটি বরাক উপত্যকার নাট্যশিল্পের এক ঐতিহাসিক ক্ষণ এবং বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন, কাছাড় জেলা সমিতির এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। তাঁরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং আগামী দিনে এই ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

এদিন পঞ্চাশতম রজনী উপলক্ষে “এ মাসের নাটক”-এর বিগত ৫০টি রজনীর স্মৃতি, আলোকচিত্র ও ইতিহাস নিয়ে প্রকাশিত একটি বিশেষ আকর্ষণীয় ক্রোড়পত্র উন্মোচন করা হয়। ক্রোড়পত্রটি উন্মোচন করেন উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ। এরপর তাঁদের মূল্যবান মন্তব্য এবং শুভেচ্ছা বার্তা সম্বলিত খাতায় স্বাক্ষরের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক পর্বের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠান সমাপ্তির পূর্বে এক আবেগঘন মুহূর্তে নবারুণ সাংস্কৃতিক সংস্থার পক্ষ থেকে সংস্থার কর্ণধার, বিশিষ্ট নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেত্রী চম্পা ভট্টাচার্য বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের বিশিষ্টজনদের হাতে ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার নিদর্শন স্বরূপ একটি বিশেষ স্মারক তুলে দেন।

এরপরই শুরু হয় দর্শকদের বহু প্রতীক্ষিত মূল আকর্ষণ — চম্পা ভট্টাচার্যের সুদক্ষ নির্দেশনায় এবং নবারুণ সংস্থার প্রযোজনায় নাটক ‘জোকার’। সমাজের এক অবহেলিত জোকারের জীবনের হাসি-কান্না, যন্ত্রণা ও বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই নাটকটি উপস্থিত হল ভর্তি দর্শককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। অভিনেতাদের অসাধারণ অভিনয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে দর্শক। বিপুল করতালি ও প্রশংসার মধ্যে দিয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হয় ৫০তম রজনীর এই ঐতিহাসিক নাট্য সন্ধ্যা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *