বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি : ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি আন্দোলন ঘিরে আজ সকাল থেকেই কার্যত দুর্গে পরিণত দিল্লি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ‘আরশোলা’রা। সেই আন্দোলন রুখতে মধ্য দিল্লির বহু এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি, জনপথ-কর্তব্য পথ ক্রসিংয়ের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধ জুড়ে ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট বন্ধ, মোতায়েন ২৩ থেকে ২৬ হাজার পুলিশ ও আধাসেনা, বন্ধ নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে ট্রেন ঢোকা এবং মেট্রো চলাচলে কড়াকড়ি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আজ দুপুরে বড় খবর – দিল্লিতে আটক করা হল বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
কি ঘটেছিল?
জানা গিয়েছে, ভোটচুরির অভিযোগে আজ সকালে দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউতে নিজের বাড়ির সামনেই সাংসদদের নিয়ে ধরনায় বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা – রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, শামিরুল ইসলাম এবং সাকেত গোখেল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ধরনা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যায় দিল্লি পুলিশের একটি বড় দল। পুলিশের তরফে ধরনা প্রত্যাহার করতে বলা হয়, কারণ মধ্য দিল্লিতে জমায়েত নিষিদ্ধ। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাতে রাজি হননি। তিনি জানান, এটি শান্তিপূর্ণ অবস্থান। এরপরই বেআইনি জমায়েতের অভিযোগে তাঁকে সহ বাকি নেতাদের আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা তখনও পর্যন্ত স্পষ্ট করেনি পুলিশ।
প্রিজন ভ্যান থেকেই লাইভে মমতা
আটক হওয়ার পরই চমক। প্রিজন ভ্যানের ভিতর থেকেই নিজের সমাজমাধ্যমে ফেসবুক লাইভ শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লাইভে তিনি বলেন, “প্রথমে আমরা যন্তর মন্তরে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অনুমতি দেওয়া হয়নি। সিজেপি আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। কিন্তু তাঁদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য রাজনীতিবিদদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর বাড়ির সামনেই শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেছিলাম। কিন্তু সেখান থেকেও আমাদের গ্রেপ্তার করা হল।”
পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে তিনি আরও বলেন, “কোথাও না নিয়ে গিয়ে ৪০ মিনিট ধরে দিল্লির বিভিন্ন রাস্তায় আমাদের ঘোরানো হচ্ছে।” লাইভ থেকেই ফের একবার কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়ান তিনি।

সবচেয়ে নজরকাড়া মুহূর্ত ছিল, প্রিজন ভ্যানের ভিতরেই দোলা সেন, ডেরেক ও’ব্রায়েনদের নিয়ে গান গাইতে শুরু করেন মমতা। তাঁকে গাইতে শোনা যায়, “আঁখো মে ভর লো পানি।” মুহূর্তে সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় সমাজমাধ্যমে।
শুধু মমতাই নন
পুলিশ সূত্রে খবর, এদিন শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকেও আটক করা হয়েছে। সকাল থেকেই দিল্লি জুড়ে ধরপাকড় চলছে। বামনেত্রী নেহা, মীনাক্ষীদেরও বিক্ষোভস্থল থেকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। সিপিএমের সেন্ট্রাল কমিটির অফিস ঘিরে রেখেছে পুলিশ।
কেন এই বিক্ষোভ?
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আজ যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘আরশোলা’রা। তাদের অভিযোগ, দেশে ভোটচুরি হচ্ছে। দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই বিক্ষোভের কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি, কারণ ১০ দিন আগে বাধ্যতামূলক আগাম নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং আগের বিক্ষোভে নির্দেশিকা লঙ্ঘন করা হয়েছিল। জননিরাপত্তার স্বার্থেই অনুমতি বাতিল।
এর প্রতিবাদে বিরোধীরা সুপ্রিম কোর্টে গেলে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না। আদালতের মন্তব্য ছিল, “মাছি মারতে কেউ হাতুড়ি চালায় না!” এদিকে আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় দিল্লির সমস্ত মদের দোকানও দু’দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে আবগারি দপ্তর।












