ক্লাবের বৈঠকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চাওয়ার সিদ্ধান্ত, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
দিল্লি। ৯ জুন ২০২৬ : লোকসভায় দলের ভাঙনের জটিলতা মাথায় নিয়েই দিল্লিতে পৌঁছলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। রবিবার রাজধানীর সংবিধান ক্লাবে বসা বিরোধী জোটের বৈঠকে তিনিই ছিলেন নজরের কেন্দ্রে। বৈঠকের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের শীর্ষ নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর ডান পাশে বসে থাকেন তিনি। বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনের মঞ্চেও মমতা, সোনিয়া ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে একসাথে দেখা যায়।
পোস্টার ঘিরে চর্চা
বৈঠকে ঢোকার আগেই রাজধানীর ছবিটা ছিল অন্যরকম। রফি মার্গ ও সংবিধান ক্লাবের সামনে বিভিন্ন নেতার পুরনো মন্তব্য নিয়ে বড় বড় পোস্টার লাগানো ছিল। তালিকায় ছিলেন রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, স্ট্যালিন ও ভগবত মান। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, কংগ্রেসের একাংশের কর্মীরা পোস্টার লাগিয়ে আঞ্চলিক দলগুলোকে জোটের ঐক্যের বার্তা দিতে চেয়েছেন।
বৈঠকে কারা ছিলেন
মতার সফরসঙ্গী হিসেবে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক ব্যানার্জি, কল্যাণ ব্যানার্জি ও ডেরেক ও ব্রায়েন। ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ও মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে ভিডিওর মাধ্যমে যোগ দেন।
যা সিদ্ধান্ত হল বৈঠকে
১. ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে লড়াই
বাংলার ভোটের ফলাফল নিয়েই প্রথম আলোচনা করেন মমতা ও অভিষেক। বিরোধী জোটের অভিযোগ, “বিশেষ নিবিড় সংশোধন” এর নামে কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এতে ভোটের স্বচ্ছতা নষ্ট হয়েছে। তাই দেশের প্রধান বিচারপতির কাছে লিখিত চিঠি পাঠিয়ে হস্তক্ষেপ চাইবে জোট। একই সাথে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
২. শিক্ষা ইস্যুতে চাপ
জাতীয় স্তরের পরীক্ষাগুলোতে বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ফলাফলে গরমিলের ঘটনা উঠে আসে বৈঠকে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সাংবাদিকদের বলেন, “এর নৈতিক দায় নিয়ে দেশের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করবে বিরোধীরা।”
৩. সংসদের কৌশল
বেকারত্ব, জিনিসের দাম বৃদ্ধি, কৃষকদের সমস্যা ও কেন্দ্রের নীতি – এই ইস্যুগুলো নিয়ে সংসদের বাদল অধিবেশনে সরব হবে বিরোধীরা। প্রতিদিন সকাল ১০টায় রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতার ঘরে জোটের সব সাংসদ বৈঠক করবেন। সেখান থেকেই ঠিক হবে সেদিন সংসদে কী ইস্যু তুলবে বিরোধীরা।
৪. জোটের ভবিষ্যৎ রূপরেখা
নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রাখতে এখন থেকে প্রতি দুই মাস অন্তর বৈঠকে বসবেন জোটের নেতারা। পরের বৈঠক আগামী আগস্ট মাসে হায়দরাবাদ শহরে হওয়ার কথা। তারিখ পরে জানানো হবে
রাজনৈতিক বার্তা
মতা-সোনিয়ার পাশাপাশি বসা এবং বৈঠক শেষে একসাথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়া – এটা জোটের ঐক্যের বড় বার্তা দিয়েছে। ভোট প্রক্রিয়া ও শিক্ষা – দুটোই সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি জড়িত ইস্যু। এই দুটোকে হাতিয়ার করেই আগামী দিনের লড়াইয়ের রূপরেখা ঠিক করল বিরোধী জোট।












