নয়াদিল্লি : ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ জানাতে শুক্রবার রাতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল। রাষ্ট্রপতি প্রতিনিধি দলকে সময় দিয়েছিলেন রাতেই।
বৈঠক শেষে বাইরে এসে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা জানান, রাষ্ট্রপতি তাঁদের কথা মন দিয়ে শুনেছেন এবং অভিযোগের সপক্ষে তথ্যপ্রমাণ চেয়েছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। ইতিবাচক সাড়াও পেয়েছি। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং বিস্তারিত পর্যালোচনা করবেন। তবে এর জন্য তাঁর প্রমাণের প্রয়োজন। তিনি আমাদের প্রমাণ পাঠাতে বলেছেন। এবং আমরা তা পাঠানোর কথা জানিয়েছি… দেশ অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে গণতন্ত্র রক্ষায় আপনার যথাযথ পদক্ষেপ করা উচিত। আমাদের জোট ঐক্যবদ্ধ ও অত্যন্ত শক্তিশালী। আমরা দেশের ৬০ শতাংশেরও বেশি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করি। রাষ্ট্রপতির মনোভাব অত্যন্ত ইতিবাচক এবং তিনি বিষয়টিতে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।” পরে গাড়িতে ওঠার সময় তিনি দাবি করেন, তিনিই প্রথম যিনি সুপ্রিম কোর্টে এই ইস্যুটি তুলে ধরেছিলেন।
রাহুল গান্ধী বলেন, “মূল বিষয়টি হল, আমি ভেবেছিলাম রাষ্ট্রপতি ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ অস্বীকার করবেন। বলবেন যে, ভারতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু আমি অত্যন্ত বিস্মিত ও হতবাক হয়েছি যে, ভারতের রাষ্ট্রপতি আমাদের কথা মেনে নিয়েছেন। পুরো দেশ জানে যে, ভোট চুরি হচ্ছে। নরেন্দ্র মোদী এর মূল চক্রান্তকারী। অমিত শাহ ও জ্ঞানেশ কুমার যার বাস্তবায়ন করেছেন। রাষ্ট্রপতি আজ এই বিষয়টি অস্বীকার করেননি।”
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, ”আমরা দাবি জানিয়েছি যে ইভিএম বাদ দিয়ে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হোক। তিনি মনোযোগ দিয়ে আমাদের কথা শুনেছেন এবং জানিয়েছেন যে তিনি বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবেন।”
প্রতিনিধি দলে যাঁরা ছিলেন: রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মল্লিকার্জুন খাড়গে ছাড়াও সিপিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি, এনসিপি (এসপি) নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে, ভিসিকে-র থোল তিরুমাভালাম, সমাজবাদী পার্টির নেতা রাজীব রায়, জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এবং আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা।












