বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি : কৃষি ক্ষেত্রের রূপান্তরে একই নিয়ম সব রাজ্যে চলবে না, প্রয়োজন অঞ্চল-ভিত্তিক অর্থায়ন। দিল্লিতে ‘Financing India’s Journey towards Viksit Bharat’ শীর্ষক দুই দিনের জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে এমনই দাবি তুললেন অসমের অর্থমন্ত্রী জয়ন্ত মল্লবরুয়া।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ, বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীরা। “Financing Agriculture Sector Transformation” শীর্ষক সেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মল্লবরুয়া বলেন, দেশের ৪০ থেকে ৪৬ শতাংশ কর্মী কৃষির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও জিডিপিতে অবদান মাত্র ১৮ শতাংশ। এই বৈষম্য ঘোচাতে উৎপাদন থেকে প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ, বিপণন ও রপ্তানি পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভ্যালু চেইন গড়ে তোলা জরুরি।

তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান অভিন্ন ঋণ কাঠামোয় উত্তর-পূর্বের কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে ভাড়াটিয়া কৃষক, সরকারি জমির চাষি, বন অধিকার আইনের সুবিধাভোগী ও ক্ষুদ্র চা চাষিরা জমির মালিকানার কাগজ না থাকায় ব্যাঙ্ক ঋণ পান না। এই সমস্যা মেটাতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে অসমে Farmer ID বিতরণ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
অসমের কৃষি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অগরু কাঠ রাজ্যের জন্য সোনার খনি হতে পারে। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন সহজ রপ্তানি ব্যবস্থা, দ্রুত ছাড়পত্র, গুণমান পরীক্ষার ল্যাব এবং স্থানীয় প্রসেসিং ইউনিট। একইভাবে পাহাড়ি এলাকার প্রিমিয়াম আদা, হলুদ, কাজি নেমু, ভূত জলকীয়া ও বিশেষ দেশি ধানের জন্য সরাসরি আন্তর্জাতিক এয়ার কার্গো সুবিধা চান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ২ থেকে ৫ দিনের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায় এমন পচনশীল পণ্যের জন্য উৎপাদন কেন্দ্রের পাশেই কোল্ড স্টোরেজ ও প্রসেসিং ইউনিট তৈরি করলে ফসল নষ্ট কমবে এবং কৃষক বেশি দাম পাবেন। পাশাপাশি বন্যা, খরা ও পোকামাকড়ের মতো দুর্যোগে কৃষকদের জন্য দ্রুত ও রিয়েল-টাইম সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।












