,

বরাকে আজ শত কণ্ঠে ফিরবেন ভূপেন, বঙ্গভবনে শতবর্ষের বর্ণাঢ্য সমাপ্তি

১৪ বিধানসভা থেকে ১০০০ প্রতিযোগী পেরিয়ে ফাইনালে ১২৬ জন, পুরস্কার, লাইভ পোর্ট্রেট ও ‘দোহার’-কে সম্মান বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর : এক বছর ধরে ব্রহ্মপুত্র থেকে বরাক, দিল্লি থেকে ঢাকা পর্যন্ত যে সুরের যাত্রা চলেছে, আজ তার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি। আজ, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় শিলচর বঙ্গভবনে শত কণ্ঠে ধ্বনিত হবে — ‘মানুষ মানুষের জন্যে’। ‘শত কণ্ঠে ভূপেন হাজরিকা’…

১৪ বিধানসভা থেকে ১০০০ প্রতিযোগী পেরিয়ে ফাইনালে ১২৬ জন, পুরস্কার, লাইভ পোর্ট্রেট ও ‘দোহার’-কে সম্মান

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর : এক বছর ধরে ব্রহ্মপুত্র থেকে বরাক, দিল্লি থেকে ঢাকা পর্যন্ত যে সুরের যাত্রা চলেছে, আজ তার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি। আজ, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় শিলচর বঙ্গভবনে শত কণ্ঠে ধ্বনিত হবে — ‘মানুষ মানুষের জন্যে’। ‘শত কণ্ঠে ভূপেন হাজরিকা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে পর্দা নামবে ড. ভূপেন হাজরিকার জন্মশতবর্ষ উদযাপনের।

তার ঠিক আগের দিন, সোমবার শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ে সম্পন্ন হল এই শতবর্ষ উদযাপনের সবচেয়ে বড় আয়োজন দক্ষিণ অসম ভূপেন্দ্র গ্র্যান্ড সঙ্গীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব।

যে যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৪ কেন্দ্র থেকে

আয়োজক ব্যতিক্রম গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, বরাক উপত্যকার কাছাড়, করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দি এবং ডিমা হাসাও জেলার মোট ১৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে হয়েছে প্রাথমিক বাছাই। চা-বাগান, প্রত্যন্ত গ্রাম, সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে এই প্রতিযোগিতায় নাম লেখান এক হাজারেরও বেশি প্রতিযোগী। সেখান থেকে বিভিন্ন পর্যায় পেরিয়ে সোমবারের ফাইনালে পৌঁছান ১২৬ জন।

অসম সরকারের সাংস্কৃতিক পরিক্রমা দফতরের তত্ত্বাবধানে এই মহতী উদ্যোগের মূল আয়োজক গুয়াহাটির ব্যতিক্রম গ্রুপ। সহযোগী সংগঠক হিসেবে রয়েছে মেরাকি অ্যাসোসিয়েটস ও নেরিম বিজনেস স্কুল।

সোমবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে ব্যতিক্রম গ্রুপের সভাপতি ড. সৌমেন ভারতীয়া বলেন, “ভূপেন হাজরিকা শুধু অসমের নন, তিনি বরাকেরও। তাঁর গানে বরাক-ব্রহ্মপুত্র এক হয়ে যায়। তাই জন্মশতবর্ষে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সমাপ্তি অনুষ্ঠান হবে শিলচরেই।”

তিনি জানান, আজকের অনুষ্ঠান নিছক পুরস্কার বিতরণী নয়, এটি বছরভর চলা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি।

আজ বঙ্গভবনে কী কী থাকছে?

বিকেল ৫টা থেকে বঙ্গভবন মিলনায়তনে থাকছে —

১. শত কণ্ঠে ভূপেন: একশো জন শিল্পী একসঙ্গে গাইবেন ভূপেন হাজরিকার কালজয়ী গান।
২. লাইভ পোর্ট্রেট: মঞ্চেই আটজন চিত্রশিল্পী আঁকবেন ভূপেন হাজরিকার আটটি ভিন্ন সময়ের প্রতিকৃতি।
৩. নৃত্যানুষ্ঠান: শমীক চন্দের নেতৃত্বে নিরন্তন ডান্স একাডেমির বিশেষ নৃত্যনাট্য।
৪. ভূপেন হাজরিকা সম্মান: এবছর সম্মান প্রদান করা হচ্ছে বাংলার জনপ্রিয় লোকগানের ব্যান্ড ‘দোহার’-কে।
৫. বিজয়ী ঘোষণা: গ্র্যান্ড ফাইনালের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পুরস্কার প্রদান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কাছাড় জেলার অভিভাবক মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। এছাড়া সাংসদ, বিধায়ক ও বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত থাকবেন।

‘ভূপেনদার স্বপ্ন ছিল অসমকে বিশ্বমঞ্চে নেওয়া’

সাংবাদিক বৈঠকে প্রধান বিচারক, ভূপেন হাজরিকার ভ্রাতৃবধূ ও বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী মনীষা হাজরিকা বলেন, “ভূপেনদার স্বপ্ন ছিল অসমের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও পরিচয়কে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দেওয়া। আজ যখন দেখি বরাকের প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে-মেয়েরা তাঁর গান গাইছে, তখন মনে হয় তাঁর স্বপ্ন সার্থক হচ্ছে।”

তিনি জানান, বরাক উপত্যকাকে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ, কলকাতা ও দিল্লিতেও ভূপেনের গান নিয়ে কর্মশালা হয়েছে। এখন লক্ষ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর দর্শনকে পৌঁছে দেওয়া।

সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মেরাকি অ্যাসোসিয়েটসের প্রতিনিধি সীমা শর্মা, গৌহাটি হাইকোর্টের আইনজীবী সোহেলি শীল সরকার, গীতাঞ্জলি কাকতি, জয়দীপ চক্রবর্তী, অঞ্জন পাল,ভাস্কর দাস সহ অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *