বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর: দেবীপক্ষের আগমনী সুরের ঠিক আগেই শুরু হল পিতৃপক্ষ। আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, রবিবার প্রতিপদ তিথি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তিল-তর্পণ। পঞ্জিকা মতে গতকাল ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার পূর্ণিমা তিথিতেই পিতৃপক্ষের সূচনা হয়েছে, চলবে আগামী ১০ অক্টোবর শনিবার সর্বপিতৃ অমাবস্যা অর্থাৎ মহালয়া পর্যন্ত।
সনাতন বিশ্বাস মতে, এই ১৫ দিন পিতৃপুরুষরা মর্ত্যলোকে নেমে আসেন। উত্তরপুরুষের দেওয়া জল ও অন্ন গ্রহণ করে তাঁরা তৃপ্ত হন ও আশীর্বাদ প্রদান করেন।
এবছরের পিতৃপক্ষের নির্ঘণ্ট:
আজ প্রতিপদ, এরপর —
২৮ সেপ্টেম্বর – দ্বিতীয়া
২৯ সেপ্টেম্বর – তৃতীয়া
৩০ সেপ্টেম্বর – চতুর্থী ও পঞ্চমী
১ অক্টোবর – ষষ্ঠী
২ অক্টোবর – সপ্তমী
৩ অক্টোবর – অষ্টমী
৪ অক্টোবর – নবমী
৫ অক্টোবর – দশমী
৬ অক্টোবর – একাদশী
৭ অক্টোবর – দ্বাদশী ও মঘা শ্রাদ্ধ
৮ অক্টোবর – ত্রয়োদশী
৯ অক্টোবর – চতুর্দশী
১০ অক্টোবর – সর্বপিতৃ অমাবস্যা / মহালয়া
শাস্ত্রে বলা আছে, যাঁরা পিতৃপুরুষের নির্দিষ্ট মৃত্যু তিথি জানেন না, তাঁরা মহালয়ার দিন সর্বপিতৃ অমাবস্যায় তর্পণ করলেই পূর্ণ ফল লাভ করেন।
তর্পণ কেন করতে হয়?
এর পেছনে আছে মহাভারতের কর্ণের গল্প। দানবীর কর্ণ জীবনভর সোনা-রত্ন দান করলেও পিতৃপুরুষকে কখনও অন্ন-জল দেননি। মৃত্যুর পর স্বর্গে গিয়ে তিনি খাবারের বদলে সোনা-রত্ন পান। কারণ জানতে চাইলে দেবরাজ ইন্দ্র বলেন, পিতৃ-তর্পণ না করার ফল এটি। কর্ণ জানান, জন্মপরিচয় না জানায় তিনি তা করতে পারেননি।
তখন ইন্দ্র তাঁকে ১৫ দিনের জন্য মর্ত্যে ফিরে পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে অন্ন-জল দানের অনুমতি দেন। সেই ১৫ দিনই পিতৃপক্ষ নামে পরিচিত।
আজ ভোর থেকেই বরাক নদীর সদরঘাট, অন্নপূর্ণা ঘাট সহ বিভিন্ন ঘাটে দেখা গেছে তর্পণের ভিড়।













