,

প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বাড়াতে কাছাড়ে আরটিআই সচেতনতা কর্মসূচি, নিষ্পত্তি একাধিক মামলার

জনসংযোগ। শিলচর : তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) সপ্তাহ উপলক্ষে শুক্রবার কাছাড়ের জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ের নতুন সম্মেলন কক্ষে এক দিনের তথ্য জানার অধিকার (রাইট টু ইনফরমেশন বা আরটিআই) বিষয়ক সচেতনতা কর্মসূচি ও শুনানির আয়োজন করে অসম রাজ্য তথ্য কমিশন। কাছাড় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রশাসনিক কাজকর্মে স্বচ্ছতা, সরকারি কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা তথ্য চেয়ে জমা পড়া…

জনসংযোগ। শিলচর : তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) সপ্তাহ উপলক্ষে শুক্রবার কাছাড়ের জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ের নতুন সম্মেলন কক্ষে এক দিনের তথ্য জানার অধিকার (রাইট টু ইনফরমেশন বা আরটিআই) বিষয়ক সচেতনতা কর্মসূচি ও শুনানির আয়োজন করে অসম রাজ্য তথ্য কমিশন। কাছাড় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রশাসনিক কাজকর্মে স্বচ্ছতা, সরকারি কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা তথ্য চেয়ে জমা পড়া আবেদনগুলি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিক, বিভিন্ন সরকারি বিভাগের প্রধান এবং রাজ্য জনতথ্য আধিকারিকেরা (এসপিআইও)।

উদ্বোধনী অধিবেশনে নেতৃত্ব দেন অসমের মুখ্য তথ্য আয়ুক্ত তথা অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক ভারত ভূষণ দেব চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন কাছাড়ের ভারপ্রাপ্ত জেলা আয়ুক্ত রাজীব রায়, এ সি এস। আলোচনায় সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য চাওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকদের আইনস্বীকৃত অধিকার সুনিশ্চিত করতে তথ্য জানার অধিকার আইন, ২০০৫-এর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি কী ভাবে কাজ করে, সে সম্পর্কে সাধারণ মানুষের অবগত হওয়ার ক্ষেত্রে এই আইনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। আরটিআই-এর আবেদনগুলি আইনের নির্ধারিত বিধি মেনে নিষ্পত্তি করার ক্ষেত্রে আধিকারিকদের দায়িত্ব এবং আবেদনকারীদের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহের জন্য নির্দিষ্ট পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি আধিকারিকেরা তথ্য জানার অধিকার আইনের আইনি ও প্রক্রিয়াগত দিকগুলি সম্পর্কে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজে এই আইনের প্রাসঙ্গিকতা অনুধাবনের সুযোগ পান। আলোচনায় বলা হয়, আইনটির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিকদের মধ্যে এ বিষয়ে যথাযথ সচেতনতা থাকা জরুরি। বিশেষত, নাগরিকদের কাছ থেকে আরটিআই-এর আবেদন গ্রহণ, সেগুলি খতিয়ে দেখা, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা এবং আবেদনকারীদের জবাব দেওয়ার দায়িত্বে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের এই আইন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। বিভিন্ন সরকারি দফতরে তথ্যের আবেদন নিষ্পত্তি করতে গিয়ে যে ধরনের বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, সেগুলি নিয়েও আলোচনার সুযোগ করে দেয় এই কর্মসূচি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাছাড়ের অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত মনোজ্যোতি কুটুম, এ সি এস এবং ডেভিড কুমার বরা এ সি এস, সহকারী আয়ুক্ত অরুণাভ চৌধুরী, এ সি এস, মানস প্রতিম বনজং এ সি এস এবং সম্পি দাস, এ সি এস; নির্বাচন আধিকারিক তথা সহকারী আয়ুক্ত অন্তু বরদলৈ এ সি এস এবং শিলচরের চক্র আধিকারিক অর্ণব কুমার বরুয়া, এ এল আর এস। কাছাড় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপস্থিত বিশিষ্ট আধিকারিকদের সংবর্ধনা জানানো হয়। এ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন রাজ্য সরকারি দফতরের প্রধান এবং জনতথ্য আধিকারিকেরা কর্মসূচিতে যোগ দেন। তাঁদের উপস্থিতি থেকে স্পষ্ট, দফতর স্তরে তথ্য জানার অধিকার আইন কার্যকর করার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আধিকারিকদেরও এই উদ্যোগে সামিল করা হয়েছিল।

সচেতনতা কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে বিশেষজ্ঞদের পরিচালনায় প্রশিক্ষণ পর্বের আয়োজন করা হয়। সেখানে তথ্য জানার অধিকার আইনের গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিধান এবং আবেদন প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় পদ্ধতিগুলি নিয়ে আলোচনা হয়। আরটিআই ব্যবস্থার ডিজিটাল দিকগুলির উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল অনলাইনে আবেদন নথিভুক্ত করা এবং আবেদনের বর্তমান অবস্থা অনুসরণ করার পদ্ধতি। অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে কী ভাবে আবেদন গ্রহণ ও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়, সে সম্পর্কে অংশগ্রহণকারী আধিকারিকদের অবহিত করা হয়। তথ্য পাওয়ার অধিকার এবং সরকারি পরিষেবা প্রদানের ক্রমবিকাশমান ব্যবস্থায় এই ডিজিটাল পদ্ধতিগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়।

প্রযুক্তিগত উপস্থাপনার পর প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারী আধিকারিকেরা বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আইনটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে তাঁদের অভিজ্ঞতায় উঠে আসা সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনা করেন। এর ফলে আরটিআই-এর আবেদন গ্রহণ ও নিষ্পত্তির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সংশয় দূর করার পাশাপাশি তথ্যের আবেদন নিয়ে কাজ করার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের ধারণা আরও স্পষ্ট করার সুযোগ তৈরি হয়। তথ্য পাওয়ার অধিকার সংক্রান্ত আইনি বিধানের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দফতরের দৈনন্দিন কাজকর্মে উদ্ভূত বাস্তব সমস্যাগুলিও এই আলোচনায় স্থান পায়।

সংক্ষিপ্ত বিরতির পর ফের শুরু হয় কর্মসূচি। এ বার আরটিআই সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শুনানি গ্রহণ করা হয়। বিভিন্ন সরকারি দফতরের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয় এবং শুনানি চলাকালীন সেগুলির সফল নিষ্পত্তি করা হয়। দিনের কর্মসূচিতে এই শুনানি পর্ব বিশেষ গুরুত্ব পায়। কারণ, এর মাধ্যমে আরটিআই সচেতনতা কর্মসূচি কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা বা প্রশিক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং বাস্তবে জমা পড়া আবেদনগুলির বিচার-বিবেচনা ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নেওয়া হয়। নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে আবেদনগুলির নিষ্পত্তি এবং তথ্য সংক্রান্ত বিষয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে চলার গুরুত্বও এই পর্বে আরও এক বার সামনে আসে।

সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ এবং আনুষ্ঠানিক শুনানি।এই তিনটি পর্বের সমন্বয়ে আয়োজিত কর্মসূচিটি এক দিকে সরকারি আধিকারিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ করে দেয়, অন্য দিকে বিচারাধীন আরটিআই আবেদনগুলির নিষ্পত্তিতেও সহায়ক হয়। অসম রাজ্য তথ্য কমিশন, জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন সরকারি বিভাগের প্রতিনিধিদের একই মঞ্চে এনে তথ্য জানার অধিকার আইনের বিধান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তথ্যের আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আরও সুস্পষ্ট ও দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হয়। সরকারি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা কার্যকর ভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *