বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: জাতীয় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে চলমান জেন-জি আন্দোলন মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নাগরিক অধিকার রক্ষা কমিটি (CRPC), অসমের সচিব-প্রধান সাধন পুরকায়স্থ।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সাধন পুরকায়স্থ বলেন, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ রাষ্ট্রের প্রতি কোনও হুমকি নয়; বরং এটি সাংবিধানিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহি রক্ষার অন্যতম প্রধান অবলম্বন।
তিনি বলেন, ভারত পরিচালিত হতে হবে সংবিধান, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের নীতিতে— ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক সুবিধা কিংবা ক্ষমতার ইচ্ছানুসারে নয়। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ব্যানারে সংগঠিত জেন-জি আন্দোলনকারীরা ভারতের বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন এবং তাঁর পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে পথে নেমেছেন। তাদের উত্থাপিত বিষয়গুলি যথাযথ, স্বচ্ছ ও তথ্যনির্ভর পর্যালোচনার দাবি রাখে।
সাধন পুরকায়স্থের অভিমত, গণতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা শুধু নির্বাচনের আয়োজনের উপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে সেই নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও সততার উপরও। নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয় পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে থেকে নাগরিকদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করতে হবে।
তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে তাঁকে রক্ষার প্রবণতা দৃশ্যমান হয়, যা নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা সম্পর্কে জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কোনও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয় এবং রাজনৈতিক আনুগত্য কখনও প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতার বিকল্প হতে পারে না।
সাধন পুরকায়স্থ জানান, CRPC অসম সংবিধান রক্ষা ও নাগরিকদের ভোটাধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত পথে পরিচালিত জেন-জি আন্দোলনের প্রতি দ্ব্যর্থহীন সংহতি প্রকাশ করছে। এর আগেও নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে জেন-জি আন্দোলনকারীদের প্রতিবাদের সময় তিনি স্বয়ং উপস্থিত থেকে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব কেবল তরুণ প্রজন্মের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া যায় না। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সমস্ত রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের এই আন্দোলনের ন্যায়সঙ্গত দাবিগুলির পাশে দাঁড়ানো উচিত এবং শাসক দলের উচিত সংবিধান রক্ষার অঙ্গীকার বাস্তব পদক্ষেপে প্রমাণ করা।












