,

অসমের কৃষি রূপান্তর এবং গ্রামীণ জীবিকা শক্তিশালী করতে অসম সরকার ও IFPRI-র মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। দিশপুর : রাজ্যে কৃষিক্ষেত্রের রূপান্তর, জলবায়ু সহনশীলতা এবং গ্রামীণ জীবিকার ক্ষেত্রে সহযোগিতা শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে অসম সরকার এবং আন্তর্জাতিক খাদ্য নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (IFPRI)-র মধ্যে আজ দিশপুরের লোক সেবা ভবনে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। কৃষি ও সেচ মন্ত্রী পীযূষ হাজরিকা এবং রাজ্যের মুখ্য সচিব ড. রবি কোটার উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। দিশপুর : রাজ্যে কৃষিক্ষেত্রের রূপান্তর, জলবায়ু সহনশীলতা এবং গ্রামীণ জীবিকার ক্ষেত্রে সহযোগিতা শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে অসম সরকার এবং আন্তর্জাতিক খাদ্য নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (IFPRI)-র মধ্যে আজ দিশপুরের লোক সেবা ভবনে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। কৃষি ও সেচ মন্ত্রী পীযূষ হাজরিকা এবং রাজ্যের মুখ্য সচিব ড. রবি কোটার উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

এই চুক্তি যৌথ গবেষণা ও তথ্যসমৃদ্ধ প্রমাণ তৈরী, রাজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির দক্ষতা বিকাশ এবং নীতিগত পরামর্শ ও সহায়তা সম্প্রসারিত করবে। এই সহযোগিতা কৃষকের আয় ও পুষ্টির ফলাফল উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও বন্যার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া, ধানভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থার বৈচিত্র্যকরণ, চা, উদ্যান ফসল, পশুপালন এবং মৎস্য পালনের উন্নয়নে সহায়তা করবে।

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী পীযূষ হাজরিকা বলেন, রাজ্যের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। অসমের মতো রাজ্যে যেখানে কৃষিজমির পরিমাণ সীমিত, সেখানে কম জমিতে বেশি উৎপাদনের জন্য প্রয়াস করতে হবে। বর্তমান সরকার উদ্যান ফসলের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, তাতে কৃষকরা বেশি লাভবান হতে পারবেন। তিনি বলেন, “আমরা কৃষিক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে গবেষণা ও নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে গুরুত্ব দিতেই হবে।”

মুখ্য সচিব ড. রবি কোটা বলেন, কৃষির বৈচিত্র্যকরণের ওপর কাজ করতে হবে। ভারতের অন্য প্রান্তের তুলনায় পূর্ব ভারতের কৃষকদের এই ক্ষেত্রে আরও বেশি পেশাগত সহযোগিতার প্রয়োজন। এই চুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতার সুফল অসমের কৃষকরা পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

IFPRI-র পক্ষে ভারত সরকারের অবসরপ্রাপ্ত সচিব টি. নন্দকুমার বলেন, অসম বর্তমানে কৃষিক্ষেত্রের রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে এবং আরও শক্তিশালী প্রমাণ ও বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতা কৃষক ও গ্রামীণ সম্প্রদায়ের প্রয়োজন অনুযায়ী নীতি ও বিনিয়োগ নির্ধারণে সহায়তা করতে পারে।

এই চুক্তিতে কৃষি থেকে আয়, ঝুঁকি ও পুষ্টির ফলাফল বুঝতে পারিবারিক তথ্য ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদী সমীক্ষার ব্যবহার, কৃষি কর্মসূচির কৌশলগত মূল্যায়ন, ক্ষুদ্র চা চাষিদের সহায়তা, উচ্চমূল্যের কৃষি ভ্যালু চেইন বিকাশ, বন্যাপ্রবণ এলাকায় মৎস্য পালন ও জলাশয়ভিত্তিক জীবিকা শক্তিশালী করা, কৃষক উৎপাদক সংস্থা (FPO) ও বাজার ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের কমিশনার অরুণা রাজরিয়া এবং IFPRI-র দক্ষিণ এশিয়ার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. অবিনাশ কিশোর সহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *