বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। কোচবিহার : নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজের অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে সরব হল ‘আমরা বাঙালী’। নেতাজীর মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি নগেন্দ্র রায়ের সাংসদ পদ বাতিলের দাবীতে মঙ্গলবার কোচবিহারের রাজপথে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করে সংগঠনটি। একইসঙ্গে জাত-বাঙালী রাজবংশী সম্প্রদায়কে বৃহত্তর বাঙালী জনগোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
এদিন কোচবিহারের রাসমেলা মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে কোচবিহার শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে মিছিল পৌঁছয় জেলা শাসকের দফতরে। সেখানে জেলা শাসকের মাধ্যমে ভারতের মাননীয়া রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে করা মন্তব্যের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নগেন্দ্র রায়ের সাংসদ পদ বাতিলের দাবি জানানো হয়।নেতাজীকে নিয়ে নগেন্দ্র রায়ের মন্তব্যের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে FIR দায়ের হওয়ার বিষয়টিও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে কোচবিহারের ব্রাহ্ম মন্দির সংলগ্ন এলাকায় প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন ‘আমরা বাঙালী’র কেন্দ্রীয় সচিব জ্যোতিবিকাশ সিনহা, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সচিব তপোময় বিশ্বাস, বরেন্দ্র ভূমি সাংগঠনিক সচিব দলেন্দ্রনাথ রায়, কোচবিহার জেলা সচিব ডা. রতন বর্মন, সহ-সচিব স্বদেশ সরকার, জেলার সাংগঠনিক সচিব সুনীল রায় এবং বিশিষ্ট প্রাউটিষ্ট সুবোধ বর্মন। সভা পরিচালনা করেন বাঙালী যুব সমাজের সদস্য বাবলা দেব।
বক্তারা বলেন, “নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু শুধুমাত্র একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী নন—তিনি ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রাম, আত্মমর্যাদা ও দেশপ্রেমের এক অমর প্রতীক। তাঁর প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য মানেই দেশদ্রোহীতার সামিল।এই ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
বক্তাদের বক্তব্য, একজন সাংসদের কাছ থেকে দেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় স্বাধীনতা সংগ্রামীকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। তাই বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করে নগেন্দ্র রায়ের সাংসদ পদ বাতিলের দাবিতে দেশের সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ সভায় নেতাজী প্রসঙ্গের পাশাপাশি জাত-বাঙালী রাজবংশী সম্প্রদায়কে বাঙালী জনগোষ্ঠীর মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেও সরব হন বক্তারা।
‘আমরা বাঙালী’র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, রাজবংশী বাঙালীদের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে ব্যবহার করে বৃহত্তর বাঙালী সমাজের মধ্যে বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা চলছে। সংগঠনের বক্তব্য, বাঙালী সমাজের অভ্যন্তরে বিভেদ সৃষ্টি করে কোনও রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির প্রচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, রাজবংশী বাঙালীদের সরলতা ও আবেগকে কাজে লাগিয়ে বিভাজনের রাজনীতি চালানো হচ্ছে। তাঁদের দাবি, বৃহত্তর বাঙালী জনগোষ্ঠীর ঐক্য অক্ষুণ্ণ রেখেই রাজবংশী বাঙালীদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।সভা থেকে রাজবংশী বাঙালীদের উদ্দেশে বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ‘আমরা বাঙালী’র পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়—নেতাজীর মর্যাদা রক্ষা, বাঙালীর ঐক্য এবং জাত-বাঙালী রাজবংশী সমাজকে বৃহত্তর বাঙালী জনগোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন করার যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আন্দোলন আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।












