বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি : নির্ধারিত সময়ে ডিলিমিটেশন বিল পাশ করানো যায়নি, তবুও প্রক্রিয়া থামাতে নারাজ কেন্দ্র। বাদল অধিবেশনে বিলটি পাশ করানোর পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এই পরিস্থিতিতে যে কোনও সময় ফের সংসদের অধিবেশন ডাকা হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু।
সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতীতে বহুবার এমন নজির রয়েছে। অধিবেশন কখন ডাকা হবে, তা নির্ধারণ করার পূর্ণ অধিকার সরকারের রয়েছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বাদল অধিবেশনে ১৩ আগস্ট লোকসভা এবং রাজ্যসভা দুটি কক্ষই অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি ঘোষণা করা হয়। সাধারণ রীতি অনুযায়ী মুলতবির কয়েক দিনের মধ্যেই অধিবেশন সমাপ্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়। যেমন বাজেট অধিবেশন ১৮ এপ্রিল শেষ হওয়ার পর ২০ এপ্রিল তা সমাপ্ত বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু এবার বাদল অধিবেশনের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত সেই সমাপ্তির বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি।
সংসদীয় নিয়ম বলছে, কক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি হলেও রাষ্ট্রপতি যতক্ষণ না পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অবসান ঘোষণা করছেন, ততক্ষণ আইনিভাবে অধিবেশন শেষ হয় না। সংবিধান অনুযায়ী সরকারের সুপারিশের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি অধিবেশনের সূচনা ও সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
আর এই দেরিকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা দানা বেঁধেছে। বিরোধী দলগুলির প্রশ্ন, আসন পুনর্বিন্যাস বা নারী সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিল পাশ করাতেই কি সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে অধিবেশন সমাপ্তির ঘোষণা আটকে রেখেছে? অনেকের মতে, বিশেষ প্রয়োজনে সরকার যে কোনও সময় বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারে।
এর আগে বাজেট অধিবেশনে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় সরকার বিলটি পাশ করাতে পারেনি। বাদল অধিবেশনেও জেন জি বিক্ষোভের জেরে সংসদের কাজকর্ম বারবার ব্যাহত হয়েছে এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি সরকারের অনুকূলে ছিল না।
তবে সময় এখন সরকারের প্রতিকূলে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই যদি ডিলিমিটেশন কার্যকর করতে হয়, তাহলে অবিলম্বে আইন পাশ করানো জরুরি। কারণ আইন পাশ হওয়ার পর ডিলিমিটেশন কমিটি গঠন করা হবে এবং সেই কমিটি সারা দেশ ঘুরে নতুন করে লোকসভা আসনের পুনর্বিন্যাস করবে, যা যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া। সেই কারণেই কেন্দ্র যত দ্রুত সম্ভব আসন পুনর্বিন্যাস আইনটি পাশ করিয়ে নিতে চাইছে।
এ প্রসঙ্গে কিরেন রিজিজুর বক্তব্য, “অধিবেশন এখনও সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়নি, এটা ভুললে চলবে না। যেহেতু অধিবেশন শেষ হয়নি, তাই সরকার চাইলে যে কোনও সময় ফের অধিবেশন বসাতে পারে।”












