,

শিলঙে নেতাজী-বিবেকানন্দের মূর্তি ভাঙচুর

তীব্র নিন্দা ‘আমরা বাঙালী’-র, মেঘালয় সরকারের কাছে ৫ দফা দাবি নিজস্ব প্রতিবেদক। শিলচর: শিলঙের আর.আর. কলোনিতে খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (KSU)-এর র‍্যালির সময় নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ‘আমরা বাঙালী’। সংগঠনের অভিযোগ, র‍্যালির সময় বিক্ষোভকারীরা নেতাজীর মূর্তি ভেঙে তাতে পা দিয়ে লাথি মেরে ফুটবল খেলার মতো উল্লাস করে। একইসঙ্গে ওই কলোনিতে থাকা…

তীব্র নিন্দা ‘আমরা বাঙালী’-র, মেঘালয় সরকারের কাছে ৫ দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক। শিলচর: শিলঙের আর.আর. কলোনিতে খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (KSU)-এর র‍্যালির সময় নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ‘আমরা বাঙালী’। সংগঠনের অভিযোগ, র‍্যালির সময় বিক্ষোভকারীরা নেতাজীর মূর্তি ভেঙে তাতে পা দিয়ে লাথি মেরে ফুটবল খেলার মতো উল্লাস করে। একইসঙ্গে ওই কলোনিতে থাকা স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তির কাচের সুরক্ষা-আবরণও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ।

মঙ্গলবার এক প্রেস বিবৃতিতে ‘আমরা বাঙালী’-র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সচিব তপোময় বিশ্বাস বলেন, “এই ঘটনা শুধু নেতাজীর প্রতি নয়—সমগ্র ভারতবাসী এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের প্রতি চরম অবমাননা। নেতাজী কোনও একটি সম্প্রদায়ের সম্পত্তি নন। তিনি আপামর ভারতবাসীর গর্ব।”

তিনি আরও বলেন, “দাবী আদায়ের নামে ইতিহাসের মহান ব্যক্তিত্বদের মূর্তি ভাঙচুর ও অবমাননা গণতান্ত্রিক আন্দোলন হতে পারে না। এটি সভ্যতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি চরম অবজ্ঞা। স্বামী বিবেকানন্দও শুধু বাংলার নন, তিনি সমগ্র ভারতের বিশ্ববরেণ্য মনীষী। শিলঙের সঙ্গে তাঁর ঐতিহাসিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর।”

৫ দফা দাবি
ঘটনার প্রতিবাদে মেঘালয় সরকারের কাছে ৫ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি:
১. নেতাজীর মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনার অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত।
২. ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা।
৩. স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তির সুরক্ষা-আবরণ ভাঙচুরের ঘটনাও তদন্তের আওতায় আনা।
৪. ভবিষ্যতে জাতীয় বীর ও মনীষীদের মূর্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৫. ভাঙচুর হওয়া নেতাজীর মূর্তি অবিলম্বে পুনঃস্থাপন ও যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষণ।

‘আমরা বাঙালী’-র স্পষ্ট বক্তব্য, খাসি সমাজের ন্যায্য দাবি থাকলে তা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পথে উত্থাপন করা যায়। কিন্তু তার আড়ালে জাতীয় বীরদের অপমান মেনে নেওয়া হবে না।

বিবৃতির শেষে বলা হয়, “নেতাজীকে অপমান মানে স্বাধীনতা সংগ্রামের আত্মত্যাগকে অপমান। স্বামী বিবেকানন্দকে অপমান মানে ভারতীয় নবজাগরণের চেতনাকে অপমান। মূর্তি ভাঙার রাজনীতি বন্ধ হোক—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক।”

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *