বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর : সারা আসাম রাজ্যে সম্প্রতি লোক গণনার কাজ শুরু হয়েছে। লোক গণনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইন ও নিয়ম-কানুন রয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিককে গণনাকারীদের কাছে পরিবারের সঠিক তথ্য তুলে ধরতে হবে এবং গণনাকারীকেও সেই সঠিক তথ্য খাতায় লিপিবদ্ধ করতে হবে। অন্যথায় তা দণ্ডনীয় অপরাধ।
কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছি, আসামের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা স্বাধীনতা দিবসের দিন তার বক্তব্যে অসমীয়া ভাষাভাষীদের সংখ্যা রাজ্যে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে বলে উল্লেখ করে, রাজ্যে বসবাসকারী অন্য রাজ্যের ও অন্য ভাষাভাষী মানুষদের অসমীয়া ভাষাকে মাতৃভাষা হিসেবে লিপিবদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই ক্ষেত্রে বরাক উপত্যকাকে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বাদ দিয়েছেন।
‘আমরা বাঙালি, আসাম রাজ্য কমিটি’-র সচিব সাধন পুরকায়স্থ এক প্রেস বার্তায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূত ও অসাংবিধানিক। যেখানে সঠিক তথ্য লিপিবদ্ধ করার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে এই ধরনের আহ্বানের মাধ্যমে জনগণনার তথ্যের বিকৃতি ঘটবে এবং সঠিক প্রতিফলন ঘটবে না।
সাধন পুরকায়স্থের বক্তব্যে সাংবিধানিক ও আইনি অবস্থান
সাধন পুরকায়স্থ বলেন,
১. ভারতের সংবিধানের ২৯ এর ১ নম্বর অনুচ্ছেদে নাগরিকের নিজস্ব ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে।
২. ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও সমান আইনি সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
৩. ১৯৪৮ সালের জনগণনা আইন অনুযায়ী গণনাকারীর আইনসম্মত প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়া নাগরিকের বাধ্যবাধকতা।
৪. ওই একই আইনে গণনাকারীর জেনে-বুঝে মিথ্যা তথ্য লিপিবদ্ধ করা এবং নাগরিকের জেনে-বুঝে মিথ্যা তথ্য দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
তাই কার মাতৃভাষা কী হবে তা কোনো সরকার বা কোনো মুখ্যমন্ত্রী নির্ধারণ করে দিতে পারেন না। মাতৃভাষার অধিকার ভারতবর্ষের নাগরিকের মৌলিক অধিকার। ভাষাগত পরিচয় সংক্রান্ত কোনো তথ্য যাতে অন্যায় চাপ, বৈষম্য বা বেআইনি প্রভাবের মাধ্যমে বিকৃত না হয়, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।
সাধন পুরকায়স্থের দাবি ও আহ্বান
সাধন পুরকায়স্থ ভারত সরকারের জনগণনা অধিকর্তার কাছে এই ব্যাপারে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের দাবি জানান। অন্যথায় আসামের চলমান লোক গণনায় সঠিক তথ্যের প্রতিফলন ঘটবে না।
একই সঙ্গে রাজ্যবাসীর কাছে সাধন পুরকায়স্থ-র আহ্বান, আপনারা গণনাকারীদের কাছে আপনাদের প্রকৃত ও সঠিক তথ্য জানান, যাতে আসামে সঠিক তথ্যসম্বলিত একটি জনগণনা সম্পন্ন হয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা অসমীয়া ভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা চাই অসমীয়া ভাষা ও সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ হোক। এই ক্ষেত্রে আইন মেনে, সংবিধান মেনে সরকার যা করার তা করুক, তাতে আমাদের আপত্তি নেই।
আমরা চাই সমস্ত ভাষাভাষী মানুষকে নিয়ে আসাম একটি সমৃদ্ধ রাজ্য হিসেবে গড়ে উঠুক। সরকারকে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আসাম একটি বহুভাষিক রাজ্য। এই সত্যটা মেনে নিয়ে কীভাবে একটি সমৃদ্ধ আসাম গড়ে তোলা যায়, সরকার সেই চিন্তা-চর্চা করুক।
জনগণনা প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়ে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা তথ্য প্রদান, আইনসম্মত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি, অথবা গণনাকারীর পক্ষ থেকে জেনে-বুঝে মিথ্যা তথ্য লিপিবদ্ধ করার মতো কার্যকলাপ ঘটলে, ১৯৪৮ সালের জনগণনা আইনের প্রযোজ্য ধারা অনুসারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে।












