কলকাতা-ডিমাপুর দুই কেন্দ্রের পরিচালনার ভার, বিশ্বমঞ্চে উত্তর-পূর্বের সংস্কৃতি তুলে ধরার আশা
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। কলকাতা : ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীন কলকাতার পূর্বাঞ্চল সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক আশিস কুমার গিরি আজ থেকে নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে অবস্থিত উত্তর-পূর্বাঞ্চল সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। এর ফলে দেশের পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দুই গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালনার ভার এখন একসঙ্গে তাঁর কাঁধে। সংস্কৃতি জগতে আশিস কুমার গিরি একজন সুপরিচিত নাম। উনি শুধু প্রশাসক নন, একজন দক্ষ সঙ্গীত শিল্পী, চিন্তাশীল লেখক ও নিবেদিতপ্রাণ সংস্কৃতি কর্মী। ঝুমুর গানে তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা রয়েছে। তাঁর কণ্ঠে ঝুমুরের সুর বহু শ্রোতার মন ছুঁয়েছে। অনেক অডিও সিডি ও বই তাঁর লেখা ও সুরে প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি লোকশিল্প, লোকগান, নৃত্য ও আদিবাসী সংস্কৃতিকে জাতীয় মঞ্চে তুলে ধরার কাজ করে আসছেন। তাঁর হাত ধরেই পূর্বাঞ্চল সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নানা কর্মসূচি নতুন রূপ পেয়েছে। সংস্কৃতি মহলের মতে, তাঁর এই দ্বৈত দায়িত্ব দেশের সংস্কৃতি, লোকশিল্প ও ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজে নতুন গতি আনবে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, বরাক উপত্যকার লোকসংস্কৃতি ও অসমের ঐতিহ্যকে দেশ-বিদেশের দরবারে পৌঁছে দিতে তাঁর অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রাখবে। তাঁর এই দায়িত্ব পাওয়ার খবর শোনার পর শিলচরের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক সন্তোষ চন্দ আশিস কুমার গিরি মহাশয়কে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আশিস গিরির হাত ধরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে অনেক পরিবর্তন আসবে। শিল্পী সমাজের উন্নতি হবে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, আশিস গিরি এই অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ায় বরাক উপত্যকার সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরবেন। বরাকের ভাটিয়ালি, ধামাইল, মণিপুরী নৃত্য থেকে শুরু করে স্থানীয় শিল্পীদের মঞ্চ পাওয়ার পথ আরও প্রশস্ত হবে বলে আশা তাঁর। এছাড়া নৃত্যাঞ্জলি সাংস্কৃতিক সংস্থার অধ্যক্ষা গায়ত্রী দেব ও সম্পাদিকা সোনালি দে, শিলচর ইয়ুথ কয়্যারের সভাপতি রজত ঘোষ, বরাককণ্ঠ পত্রিকার পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সন্তোষ চন্দ। সংস্কার ভারতী দক্ষিণ অসম প্রান্তের সম্পাদক বিশ্বতোষ দেবও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছেন। দুই কেন্দ্রের যুক্ত পরিচালনার মাধ্যমে শিল্পী বিনিময়, কর্মশালা ও উৎসবের পরিধি বাড়বে এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা বড় সুযোগ পাবে বলেই মনে করছেন সংস্কৃতি কর্মীরা।













