পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠানে সর্বভারতীয় ৬ষ্ঠ, গণিত প্রতিষ্ঠানে সম্পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে দেশসেরা ৩০-এ
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর : শুধু শিলচর নয়, গোটা বরাক উপত্যকা ও অসমের কাছে আজ গর্বের দিন। মফস্বল শহর থেকে, সরকারি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেও দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছে শিলচরের ছেলে অরিন্দম সী। ২০২৬ সালের ভারতীয় পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষায় সর্বভারতীয় ৬ষ্ঠ স্থান ও উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রথম হওয়ার পর চেন্নাই গণিত প্রতিষ্ঠানের কঠিন ভর্তি পরীক্ষায় অসমের একমাত্র ছাত্র হিসেবে সম্পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে দেশের সেরা ৩০ জনের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে সে। গণিত ও যন্ত্রবিজ্ঞানে স্নাতক সম্মান পড়ার সুযোগ পাওয়া এই সাফল্য একদিনের নয়, বছরের পর বছর ধৈর্য, অনুশীলন ও ভালোবাসার ফসল। এই পথচলার সবচেয়ে বড় শক্তি তার মা রুমি। একজন মায়ের অশেষ ত্যাগ, অসীম ধৈর্য ও অবিচল বিশ্বাস এই অর্জনের ভিত। বাবা হিসেবে পাশে থাকা ও সহযোগিতা ছাড়া আর কিছুই নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। অরিন্দমের এই কৃতিত্বের পেছনে শিলচরের ড. কালাম বিজ্ঞান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ভূমিকাও অনস্বীকার্য। গত ছয় বছর ধরে তাঁরা শুধু পাঠ দেননি, অরিন্দমের মনে গণিতের প্রতি ভালোবাসা, যুক্তিবোধ ও বড় স্বপ্ন দেখার সাহস জাগিয়েছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও সমানতালে পাশে থেকেছেন। মেধার ধারাবাহিক যাত্রায় অরিন্দম চার বছর ধরে গণিত অলিম্পিয়াড, ভারতীয় গণিত অলিম্পিয়াড বাছাই, আঞ্চলিক গণিত অলিম্পিয়াড ও আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়ে ভারতীয় গণিত অলিম্পিয়াড পরীক্ষায় বসার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক পর্ষদের মাধ্যমিকে ৯৬ দশমিক ৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে গণিতে ৯ পায় সে। জাতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শিলচরের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ এই ছাত্র ২০২৬ সালে অসম উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের পরীক্ষায় ৯২ দশমিক ৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে তথ্য প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বিষয়ে ৯ পেয়ে রাজ্যে প্রথম হয়। শিলচর অধরচাঁদ উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পাস করা অরিন্দম যৌথ প্রবেশিকা পরীক্ষায় গণিতে ৯ দশমিক ৯৭ ভাগ পেয়েছে। আত্মীয়, শুভানুধ্যায়ী, বন্ধু ও সহকর্মীদের আশীর্বাদ ছাড়া এই পথ চলা সম্ভব ছিল না বলে জানিয়েছে পরিবার। তাদের কথায়, বড় শহরে জন্ম নয়, বড় স্বপ্ন দেখাই আসল। সঠিক দিশা, পরিবারের সমর্থন, শিক্ষকের নিষ্ঠা আর নিজের একাগ্রতা থাকলে বরাকের ছেলেও দেশসেরাদের কাতারে পৌঁছতে পারে। অরিন্দম যেন শুধু সফল ছাত্র নয়, সৎ মানুষ ও ভবিষ্যতের বিশ্বমানের গবেষক হয়ে দেশ, অসম ও শিলচরের নাম আরও উজ্জ্বল করে, সেই আশীর্বাদ চেয়েছে গর্বিত পরিবার।












