বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। ৯ জুন ২০২৬: কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক পরীক্ষা পর্ষদ ও জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার পরীক্ষা ব্যবস্থায় বারবার ত্রুটি ও অনিয়মের অভিযোগে সরব হলেন শিলচরের প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও প্রাক্তন অধ্যক্ষ দিলীপ কুমার দে। দেশের ছাত্রসমাজ ও শিক্ষানুরাগীদের হতাশার কথা জানিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। দাবি করেছেন, দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো চিঠিতে ৮০ পেরোনো এই শিক্ষক নিজেকে আজীবন শিক্ষার সেবক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি পরিষ্কার লিখেছেন, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা মন্ত্রী বদলের দাবি তার নেই। তার একমাত্র চিন্তা জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থার ভেঙে পড়া ভরসা।
“শিক্ষা পবিত্র ক্ষেত্র”
চিঠিতে দিলীপ কুমার দে লিখেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস, ফলাফলে গরমিল ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার জেরে লক্ষ ছাত্রছাত্রী মানসিক যন্ত্রণা ও হয়রানির মধ্যে পড়ছে। দেশের ভবিষ্যৎ যারা, তাদের স্বপ্ন নিয়ে খেলার অধিকার কারো নেই। তিনি লিখেছেন, “শিক্ষা কোনো ব্যবসা নয়। এটি জ্ঞান, বুদ্ধি ও গবেষণা চর্চার পবিত্র ক্ষেত্র। দুর্নীতিগ্রস্ত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষ যেন এই ক্ষেত্রকে নষ্ট করতে না পারে।”
সর্বোচ্চ তদন্ত সংস্থার হস্তক্ষেপ দাবি
দেশের স্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত জাতীয় তদন্ত সংস্থা, অর্থনৈতিক অপরাধ দমন সংস্থা ও কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর মতো সংস্থাকে দিয়ে কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক পরীক্ষা পর্ষদ ও জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার কাজের অবিলম্বে, স্বচ্ছ ও সময়বদ্ধ তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
তার বক্তব্য, তদন্তে যারাই গাফিলতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস বা প্রশাসনিক ব্যর্থতার জন্য দায়ী বলে প্রমাণিত হবে, তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। দেশের আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি দিতে হবে। তবেই ছাত্র ও অভিভাবকরা আবার পরীক্ষা ব্যবস্থার উপর ভরসা রাখতে পারবেন।
শেষে দিলীপ কুমার দে প্রধানমন্ত্রীর ন্যায়বিচার ও ছাত্রসমাজের ভবিষ্যতের উপর আস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন।
শিলচরের শিক্ষা মহলের মতে, একজন প্রবীণ শিক্ষকের এই আবেদন দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সংকটকেই তুলে ধরছে।












